• ?????: সম্পাদকের পছন্দ

    সাংবাদিক অখিল পোদ্দারকে বেধড়ক পেটালো পুলিশ

    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একুশে টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি অখিল পোদ্দারকে বেধড়ক পিটিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে কুমারখালীর বাটিকামারা রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিককে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অখিল পোদ্দার সাংবাদিকদের জানান, তিনি ও মোহনা টেলিভিশনের খোকসা উপজেলা প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম রাতে মোটরসাইকেলযোগে কুষ্টিয়া শহর থেকে খোকসার নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন।বাটিকামারা রেলগেট নামক স্থানে পৌঁছালে সেখানে টহলরত কুমারখালী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)আবুল কালাম আজাদ তাদের থামান।এ সময় অখিল পোদ্দার সাংবাদিক পরিচয় দিলে কোনো কারণ ছাড়াই ওই পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকেদের জাত তুলে গালিগালাজ করতে থাকেন।

    অখিল পোদ্দার প্রতিবাদ করলে পুলিশ সদস্য আজাদসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা তাদের বেধড়ক পেটাতে থাকে। ঘটনা জানানোর জন্য অখিল পোদ্দার মোবাইল বের করলে পুলিশ তা ভেঙে ফেলে। পরে স্থানীয়রা উপস্থিত হলে পুলিশ সদস্য আজাদ তাদের সাদা কাগজে স্বাক্ষর করায় ও তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে মামলা দেয়ার কথা বলে হাতকড়া পরিয়ে তাকে ও মনিরুল ইসলামকে থানায় নেয়।

    অখিল পোদ্দার আটকের খবর পেয়ে কুষ্টিয়া ও কুমারখালীর সাংবাদিকরা থানায় উপস্থিত হলে তাকে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। এদিকে ওই পুলিশ সদস্যর শাস্তির দাবি করে সাংবাদিকরা থানা ঘেরাও করে।

    কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান,ব্যাপারটি নিয়ে আমি হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছি। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    ভেঙ্গে যাওয়া ফেলনা টব দিয়েই আকর্ষণীয় শো পিস (দেখুন ছবিতে)

    গাছকে ভালোবাসেন না এমন মানুষ পাওয়া মুশকিল। অনেকেই বাসায় শখ করে গাছ লাগিয়ে থাকেন। তবে নগর সভ্যতায় এসে যথেষ্ট জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে টবেই গাছ লাগাতে হয়। টবে যারা গাছ লাগান, তাঁরা ভালো করেই জানেন যে যে কোনোভাবেই পছন্দের টবগুলো ভেঙ্গে যেতে পারে। তাই বলে কি সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা ওখানেই শেষ? না, সেই ভেঙ্গে যাওয়া টবগুলোকেও কাজে লাগাতে পারেন দারুণভাবে। কথায় বলে না, করতে জানলে সব করা যায়? এমনই কিছু ছবি দেখে নিন যেখানে ফেলনা টবগুলোকে দারুণ উপায়ে কাজে লাগানো হয়েছে। হয়তো আপনার মাথাতেও আসতে পারে দারুণ কোন আইডিয়া!
    unyG1kF
    ছবিটিতে দেখুন। ভেঙ্গে যাওয়া টবে বুদ্ধি খাটিয়ে বানানো যেতে পারে এমনই দারুণ একটি শোপিচ।
    WgJrQoF
    শিল্প একেই বলে। পুরাতনের আদলে নতুন কিছু গড়ে তোলা।
    WjgHAEH
    ভেঙ্গে যাওয়া ফুলের টবটি বিভিন্ন রঙের সাজে সাজিয়ে গড়ে তুলতে পারেন নতুন একটি রুপে। ভাঙ্গা অংশগুলোকেও কাজে লাগাতে পারেন এভাবে।
    Ln6d2YP

    ছোট্ট একটি বাড়ি। বাড়িটিতে প্রবেশ করার জন্য ছোট্ট ছোট্ট সব সিঁড়ি। রঙ বেরঙের ছোট ছোট সব ফুলের গাছ। দেখে যেন মনে হচ্ছে অ্যানিমেশনের একটি বাড়ি। এখনই ঢুকে পড়বে কেউ একজন।
    hmQnlDg
    এটি যেন পাখিদের সত্যিকার আবাসস্থল। পাখির ছোট্ট ঘর, ছোট্ট দোলনা। সত্যিই সুন্দর একটি শোপিস হয়ে যেতে পারে এই ভাঙ্গা টব দিয়ে।
    VF1ic3M

    টবের ভাঙ্গা টুকরোগুলো দিয়ে এভাবেই সিঁড়ির একটা আদল তৈরি করতে পারেন।

    নারায়ণগঞ্জ জুড়ে এ কেমন বিলবোর্ড!

    নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে টাঙানো একটি বিলবোর্ড নিয়ে তোলপাড় চলছে। বিলবোর্ডটিতে সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর একটি ছবি দেখানো হয়েছে। আর কুরুচিপূর্ণ কিছু শব্দ উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু কে বা কারা, কেনইবা এটি লাগিয়েছে তা পুরো বিলবোর্ডের কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। সাধারণ মানুষ বলছে, বিপুল ভোটে বিজয়ী একজন জনপ্রতিনিধিকে এভাবে কটাক্ষ করে বিলবোর্ড টাঙানো কোনভাবেই উচিত হয়নি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় আইভীকে জড়িয়ে বিলবোর্ড টাঙানো হয়। বিলবোর্ডে লেখা আছে- ‘গন্ধওয়ালী বেগম সুফিয়ান’, ‘তোমার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে এই দূর্গন্ধ থেকে’, ‘তোমার দূর্গন্ধ থেকে নারায়ণগঞ্জ বাসী মুক্তি চায়’।

    স্থানীয়রা জানান, শিবু মার্কেট এলাকা ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের বিভিন্ন পয়েন্টে কে বা কারা রাতের অন্ধকােের পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব বিলবোর্ড লাগিয়েছে। আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বী কোন ব্যক্তিই এ কাজ করেছেন বলে তাদের ধারণা।
    আইভীর ঘনিষ্টজনদের অনেকেই বলেছেন, ‘শামীম ওসমানের লোকজনই এ কাজ করেছে। তাছাড়া কারো সাহস নেই যে, নারায়ণগঞ্জে আইভীর বিরুদ্ধে বিলবোর্ড লাগাবে।’

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বাংলাদেশি সাংবাদিকরা ম্যাচিউর না। দেশের সকল মানুষ জানে এ কাজ কে করেছে। তারপরেও আপনার মত অনেক সাংবাদিক ফোন করে একই প্রশ্ন করছেন।’
    সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি ছাড়া কোনো বিলবোর্ড টাঙ্গানো হয় না, বিষয়টি নজরে আনা হলে এবং এ বিষয়ে তার করণীয় কী জানতে চাইলে সিটি মেয়র আইভী বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করব না।’

    একটু বেশী বয়সে প্রেম করা যেসব কারণে “ভালো”

    কম বয়সে চট করে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন অনেকেই। আর জড়ানোর কারণও আছে। কম বয়সে আবেগটা থাকে অনেক বেশি। মনের গভীরে থাকে অনেক রোমান্টিকতা এবং স্বপ্ন। ফলে রূপকথার গল্পের মতো মনে হয় জীবনটাকে। কিন্তু অতিরিক্ত আবেগ ও মনের অস্থিরতার কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কম বয়সে গড়ে তোলা প্রেমের সম্পর্ক টিকে থাকেনা। আর তাই কম বয়সের প্রেমের সম্পর্কের চাইতে একটি বেশি বয়সের প্রেমের সম্পর্কটাই ভালো। কারণ বয়স কিছুটা বাড়লে সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, একেঅপরকে বোঝার ক্ষমতাও বেড়ে যায় অনেক বেশি। ফলে সম্পর্কটা হয় মধুর ও অনেক বেশি মজবুত। জেনে নিন একটু বেশি বয়সে প্রেম করার কিছু ভালো দিক সম্পর্কে।

    আগের চাইতে অনেক ম্যাচিউর আপনি
    কম বয়সেই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার চাইতে বেশি বয়সে প্রেমে জড়ানোটা ভালো। কারণ বয়স কিছুটা বেড়ে গেলে আপনি যথেষ্ট পরিমাণে ম্যাচিউর হয়ে যান। তখন সম্পর্কটাকে ধরে রাখা বেশ সহজ হয়। ছেলেমানুষি অভ্যাসগুলোর অনেকগুলোই থাকে না। ফলে সম্পর্কটা অনেক বেশি মজবুত থাকে।

    ভুল মানুষকে পছন্দ করার সম্ভাবনা কমে যায় অনেক
    কম বয়সে হুটহাট প্রেমে পড়লে আবেগের বর্শবর্তী হয়ে ভুল মানুষটিকে নির্বাচন করে ফেলার সম্ভাবনা আছে। কম বয়সের ভবিষ্যত সম্পর্কে চিন্তা না করেই প্রেমে পড়ার মতো ভুল করেন অনেকেই। কিন্তু বেশি বয়সে প্রেম করার ক্ষেত্রে অনেক ভেবে চিন্তেই প্রতিটি পা ফেলেন অধিকাংশ মানুষ। আর তাই ভুল মানুষটিকে পছন্দ করার সম্ভাবনা কমে যায় অনেকখানি।

    এবার ঘর বাঁধার ইচ্ছা
    বয়স বেড়ে গেলে পরিবার থেকে বিয়ে করে ফেলার জন্য চাপ দেয়া হয়। ফলে এই সময়ে যদি কেউ প্রেমের সিদ্ধান্ত নেয় তবে একবারে তাকে বিয়ে করে ফেলার জন্যই পছন্দ করে। পুরোপুরি সংসারী হয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে তাকে নিয়ে। ফলে সম্পর্কটি অনেক মজবুত ও মিষ্টি হয়। সেই সঙ্গে দুজন মিলে ভবিষ্যতটাকে গুছিয়ে নেয়াও সহজ হয়।

    ঝগড়ায় মাথা থাকে অনেক ঠাণ্ডা
    কম বয়সে প্রেমের ক্ষেত্রে একটু ঝগড়া হলেই অনেক বেশি অভিমানী হয়ে ওঠার অভ্যাস থাকে। কেউ কেউ হাত কেটে, ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘটিয়ে ফেলে নানান অঘটন। কিন্তু বয়স কিছুটা বেড়ে যাওয়ার পর প্রেমের সম্পর্কে জড়ালে অল্প স্বল্প ঝগড়ায় মাথা ঠান্ডা রাখা বেশ সহজ হয়। আর তাছাড়া খুটিনাটি সব বিষয় নিয়ে ঝগড়াও হয় না। ফলে সম্পর্কটা অনেক সহজ থাকে।

    গড়ে ওঠে একটা মজবুত মনের বন্ধন
    একটু বেশি বয়সে প্রেমের সম্পর্কে জড়ালে বন্ধনটা বেশ মজবুত হয়। কমবয়সে হুটহাট করে প্রেমের সম্পর্কে ভেঙ্গে ফেলার মতো ঘটনা ঘটলেও, বেশি বয়সে এমনটা হয়না বললেই চলে। কারণ এই বয়সের সম্পর্কটা থাকে অনেক মজবুত এবং দুজন দুজনকে বুঝে চলার ক্ষমতাটাও থাকে বেশি। তাই দুজনের মনের বন্ধনটাও হয় অনেক বেশি শক্তিশালী।

    ১৯ আগস্ট ২০১৪: টক শো: সম্পাদকীয় (ভিডিও)

    আজকের অতিথি : এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ এবং কাজী আব্দুল হান্নান
    আজকের বিষয় : বিচারপতিদের অভিশংসন ও বাহাত্তরের সংবিধান
    উপস্থাপনা : মোরশেদুল ইসলাম

    সম্প্রচার নীতিমালা হস্তক্ষেপমূলক

    সরকার প্রণীত জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা লক্ষ করা গেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মাহ্ফুজ আনাম একটি সাক্ষাতকার দিয়েছেন। প্রথম আলোয় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি আমাদের সময় ডক কমের পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।

    প্রথম আলো : সম্প্রতি মন্ত্রিসভা একটি সম্প্রচার নীতিমালা অনুমোদন করেছে। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই নীতিমালা সম্প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করবে। সরকার বলছে, তা করবে না। আপনি কী বলেন?
    মাহ্ফুজ আনাম এই নীতিমালা সম্পূর্ণভাবে হস্তক্ষেপমূলক। এটা বিভিন্নভাবে সম্প্রচারমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করবে। এতে যেসব ধারা আছে, সেগুলোর অধিকাংশই সম্প্রচারের বিষয় বা আধেয় (কনটেন্ট) সম্পর্কে। কী প্রচার করা যাবে আর কী প্রচার করা যাবে না, তা এমনভাবে নির্দেশ করা হয়েছে যে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধারাগুলো নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করে যেকোনো কিছুকেই নীতিমালার পরিপš’ী বলে অভিযোগ করতে পারবে।
    প্রথম আলো যেমন?

    মাহ্ফুজ আনাম : যেমন একটি ধারা আছে এ রকম: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে—এমন ধরনের সামরিক, বেসামরিক বা সরকারি তথ্য প্রচার করা যাবে না। এখন এটার সংজ্ঞা কে দেবে? কী ধরনের তথ্য প্রচার করলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, এটা নির্ধারণ করবে কে? এটা তো যেমন ই”ছা তেমন করে ব্যাখ্যা করা যায়। ধর“ন, ভূগর্ভ¯’ পানির স্তর ভীষণভাবে নেমে যা”েছ, এর ফলে ভীষণ খরা হতে পারে, কৃষিতে সেচসংকট হতে পারে, ফসল উৎপাদন ভীষণভাবে কমে গিয়ে দুর্ভিক্ষ লেগে যেতে পারে। আপনি তো বলতে পারেন, এই তথ্যে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে; কারণ, খাদ্যসংকট আর দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রচার করা হ”েছ। এ রকম নানা ধরনের ব্যাখ্যা দিয়ে সম্প্রচারমাধ্যমের যেকোনো আচরণকেই নীতিমালা পরিপš’ী বলার হাতিয়ার তৈরি করা হয়েছে।

    প্রথম আলো : অর্থাৎ নীতিমালার ধারাগুলো অস্পষ্ট বা এমন যে সেগুলো দেখিয়ে সরকার যেকোনো সম্প্রচারিত বিষয়কেই নিজেদের ই”েছমতো ব্যাখ্যা করতে পারবে? এবং সেই সুবাদে সম্প্রচারমাধ্যমের ওপর ছড়ি ঘোরাতে পারবে?

    মাহ্ফুজ আনাম : হ্যাঁ। এ রকম আরও কিছু বিষয় দেখুন, একটি ধারায় লেখা আছে, সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী সং¯’া ও অপরাধীদের দ-বিধানে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করে—এমন কোনো দৃশ্য বা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। এ রকম নীতিমালা থাকলে ১০ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সম্পর্কে কিছুই প্রচার করা যেত না, কারণ ওই ঘটনায় এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছিল। এটা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকেই জানা গেছে। এ রকম নীতিমালা থাকলে সেটা মানতে হলে ২০০৫ সালে শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে সম্প্রচারমাধ্যমে কিছুই প্রচার করা যেত না। কারণ, তাতে এ ঘটনায় পুলিশের তিন সাবেক মহাপরিদর্শক, এনএসআইয়ের দুজন সাবেক প্রধান ও সিআইডির তিন সাবেক কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর কয়েকজন উ”চপদ¯’ কর্মকর্তার বির“দ্ধে সংশ্লিষ্টতা ছিল এবং এ-সংক্রান্ত মামলায় তাঁদের বির“দ্ধে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। ডিজিএফআই, এনএসআই ইত্যাদি সরকারি সং¯’া ও সরকারের অনেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ভাবমূর্তি বিনষ্ট হতো। একইভাবে নারায়ণগঞ্জে সাত ব্যক্তির অপহরণ ও খুনের ঘটনায় জড়িত র‌্যাবের সদস্যদের বিষয়ে সম্প্রচারমাধ্যমে কিছুই প্রচার করা যেত না, কারণ তাতে র‌্যাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতো। এই নীতিমালা মানতে হলে পুলিশ বা র‌্যাবের হেফাজতে নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ক্ষমতার অপব্যহার ইত্যাদি সম্পর্কেও কিছু সম্প্রচার করা যাবে না, কারণ তাতে ওই সং¯’াগুলোর ‘ভাবমূর্তি বিনষ্ট’ হবে। এই নীতিমালা থাকলে র‌্যাবের সদস্যদের গুলিতে পা হারানো কিশোর লিমন সম্পর্কে, কিংবা মিরপুর থানার পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের নির্যাতনে এক ঝুট ব্যবসায়ীর মৃত্যুসহ অজস্র ক্ষমতা অপব্যবহারের ঘটনা সম্পর্কে সম্প্রচারমাধ্যমে কিছুই প্রচার করা যেত না।

    প্রথম আলো : একটি ধারায় বলা হয়েছে, সম্প্রচারের ক্ষেত্রে মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আদর্শ ও নীতিমালা সমুন্নত রাখতে হবে। এটা সম্পর্কে আপনার কী বক্তব্য?

    মাহ্ফুজ আনাম : মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা তো সত্যিকারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, যেখানে অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, সরকারি দমনপীড়ন ইত্যাদি থাকবে না। যেখানে আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারবে না। কিš‘ সম্প্রচার নীতিমালা তো এগুলোর ক্ষেত্রে সম্প্রচারমাধ্যমের যথাযথ দায়িত্ব পালনেই প্রতিবন্ধক হয়ে উঠতে পারে।

    প্রথম আলো : নীতিমালা ছাড়াই তো সম্প্রচারমাধ্যম দিব্যি চলছে। সরকার কেন এটা করতে গেল?

    মাহ্ফুজ আনাম : দেশে অনেকগুলো ক্ষেত্রে গুর“তর জাতীয় সমস্যা আছে। যেমন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ¯’ানীয় দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ, প্রতিবছর বর্ষাকালে লঞ্চ দুর্ঘটনায় প্রচুর মানুষ মারা যা”েছ, খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের ফলে জনস্বা¯ে’্যর ক্ষতি হ”েছ, ভেজাল ওষুধে বাজার সয়লাব, নকল প্যারাসিটামল খেয়ে অনেক শিশু মারা গেছে। এগুলোই হওয়া উচিত সরকারের অগ্রাধিকার। কিš‘ এসব দিকে নজর না দিয়ে কেন সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে তারা এত উৎসাহিত হয়ে উঠল, এটাই প্রশ্ন। এমনিতেই কিš‘ গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য মানহানি-সম্পর্কিত আইনসহ বিভিন্ন রকমের আইন ও বিধিবিধান আছে। সেগুলোই কিš‘ যথেষ্ট। সম্প্রচারমাধ্যমের জন্য নতুন করে এই নীতিমালার প্রয়োজন ছিল না।

    প্রথম আলো : এই নীতিমালার ভিত্তিতে একটা সম্প্রচার আইন প্রণয়ন ও গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছেৃ।

    মাহ্ফুজ আনাম : এ রকম একটা নীতিমালাকে যদি সম্প্রচার আইন প্রণয়নের ভিত্তি ধরি, তাহলে সেই আইন হবে স্বাধীন সাংবাদিকতার সম্পূর্ণ বিরোধী; সম্প্রচারমাধ্যমের ওপর একটা কালাকানুন চাপিয়ে দেওয়া হবে। তাই আমি সম্পূর্ণভাবে এর বিরোধী। আসলে কোনো শিল্প সম্পর্কে নীতিমালা বা আইনে এমন কিছু প্রতিশ্র“তি থাকতে হয়, যা ওই শিল্পের জন্য বিধিনিষেধের পাশাপাশি ওই শিল্পকে কিছু সুরক্ষাও দেবে। এই সম্প্রচার নীতিমালায় সম্প্রচারমাধ্যমের সুরক্ষা সম্পর্কে একটি প্রতিশ্র“তিও নেই। যাঁরা এই শিল্পে বিনিয়োগ করবেন, তাঁদের বিনিয়োগকে সুরক্ষা দেওয়া বা উৎসাহিত করার কোনো প্রসঙ্গই এতে নেই। এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে এ দেশের সম্প্রচারমাধ্যমের বিকাশ থেমে যাবে; বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোও বিটিভির মতো হবে। ফলে দর্শক দেশি টিভি চ্যানেলগুলোর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে বিদেশি চ্যানেলগুলোর প্রতি আরও বেশি মাত্রায় ঝুঁকে পড়বে। তাতে সম্প্রচারমাধ্যমের ভীষণ ক্ষতি হবে।

    প্রথম আলো : তাহলে কী করা উচিত?

    মাহ্ফুজ আনাম : এই নীতিমালা প্রণয়ন ও গ্রহণের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, তাও ঠিক নয়। প্রথমে একটি আইনের মাধ্যমে একটি স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন করা উচিত, সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব হবে সেই কমিশনের। কমিশন সম্প্রচারমাধ্যমের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাপকভিত্তিক আলোচনা-পরামর্শ করে এমন একটি সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন করবে, যেটি হবে সম্প্রচারমাধ্যম বিকাশের সহায়ক, উল্টোটা নয়, নিয়ন্ত্রণমূলক নয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে, সেই নীতিমালার আলোকে একটি সম্প্রচার আইন প্রণীত হবে, যার লক্ষ্য হবে সম্প্রচারমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাকে সুরক্ষা দেওয়া। সম্প্রচার আইনটিকে হতে হবে এমন, যা সম্প্রচারমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে, তা কোনোভাবে খর্ব করবে না বা সম্প্রচারমাধ্যমের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করবে না। বরং সরকার বা যেকোনো পক্ষ সম্প্রচারমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা করলে সম্প্রচার আইন তার স্বাধীনতা রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।