• ?????: ইউরোপ

    জনসনের পাউডারে ক্যান্সার : ৪৭০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

    নিউইয়র্ক, ১৩ জুলাই- মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসনের পণ্য ব্যবহারের কারণে ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগকারী ২২ নারীকে ৪৭০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।

    জনসনের ট্যালকম পাউডার ব্যবহারে ওভারিয়ান ক্যান্সার শরীরে বাসা বেঁধেছে; এমন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই ২২ নারীকে প্রাথমিকভাবে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে জনসন অ্যান্ড জনসনকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের আদালত। এছাড়াও আরো ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে।

    প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগে দায়ের হওয়া আরো অন্তত ৯ হাজার অভিযোগ আদালতে ঝুলছে। এর মধ্যে শিশুদের জন্য জনসনের তৈরি পাউডারের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। জনসন অ্যান্ড জনসন বলছে, তারা আদালতের এই রায়ে গভীরভাবে হতাশ এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছে।

    আদালতে গত ছয় সপ্তাহ ধরে চলা শুনানিতে ওই নারীরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, কয়েক দশক ধরে জনসনের বেবি পাউডার ও ট্যালকম পণ্যসামগ্রী ব্যবহারের কারণে তাদের শরীরে ওভারিয়ান ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়েছে।

    নারীদের আইনজীবীরা বলেছেন, জনসনের ট্যালকম পণ্য যে ১৯৭০ সাল থেকেই দূষিত সেটি কোম্পানি অবগত আছে; কিন্তু এরপরও তারা পণ্য ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের সাবধান করতে ব্যর্থ হয়েছে।

    ট্যালকম পাউডার তৈরির প্রধান উপাদান ট্যালক, যার রাসায়নিক নাম ম্যাগনেসিয়াম সিলিকেট; এটি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে নরম খনিজ পদার্থ। উইকিপিডিয়া বলছে, এতে রয়েছে অ্যাসবেস্টস; অ্যাসবেস্টস হল প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত ছয় সিলিকেট খনিজের একটি সেট। যা তার সুবিধাজনক প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যর কারণে বাণিজিকভাবে ব্যবহৃত হয়। রেশম ও পশমের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এই খনিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অনেক মিল দেখা যায়।

    অ্যাসবেস্টস আঁশের দীর্ঘায়িত শ্বসন ফুসফুসের ক্যান্সার, মেসোথেলিয়মা, এবং অ্যাসবেস্টস এর মত গুরুতর অসুস্থতার সৃষ্টি করতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অ্যাসবেস্টসের সকল প্রকার নিষ্কাশন, উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।

    জনসন অ্যান্ড জনসন তাদের পণ্যে অ্যাসবেস্টস থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাদের পণ্য ব্যবহারে ক্যান্সার হওয়ার শঙ্কা নেই। প্রতিষ্ঠানটি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে জানিয়ে বলছে, কারণ তারা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ওই পাউডার তৈরি করছে।

    জনসনের আইনজীবী বলেন, বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে তাদের ট্যালকম পাউডার নিরাপদ এবং পণ্যে ক্যান্সার ছড়ানোর মত ক্ষতিকারক কোনো উপাদান নেই। একই সঙ্গে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া অন্যায্য বলেও দাবি করেছে মার্কিন এই বহুজাতিক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান।

    এদিকে, ২০০৯ ও ২০১০ সালে মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জনসন অ্যান্ড জনসন-সহ আরো বেশ কয়েকটি কোম্পানির পাউডারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালায়। পরে এই পরীক্ষায় জনসনের পাউডারে অ্যাসবেস্টস পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়।

    আদালতকে আইনজীবীরা বলেন, জনসন অ্যান্ড জনসন এবং ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার করে পরীক্ষা চালিয়েছে।

    আদালতের কাছে নারীদের অভিযোগের পক্ষে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওভারিয়ান ক্যান্সারবিষয়ক দাতব্য সংস্থা ওভাকাম। সংস্থাটি বলছে, নারীদের যৌনাঙ্গে ট্যালকম পাউডার ব্যবহারের কারণে ওভারিয়ান ক্যান্সার তৈরির ঝুঁকি রয়েছে বলে তারা বেশ কয়েক বছর উদ্বেগ প্রকাশ করে এসেছে। তবে তাদের এই শঙ্কা গবেষণায় প্রমাণিত হয়নি এবং এ বিষয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন।

    জনসন এ অভিযোগে এখন পর্যন্ত যতগুলো মামলার মুখোমুখি হয়েছে তার মধ্যে এবারই সর্বোচ্চ পরিমাণ ক্ষতিপূরণের নির্দেশ পেলো।

    এর আগে গত বছর একই ধরনের অভিযোগকারী এক নারীকে চারশ ১৭ মিলিয়ন (৪১ কোটি ৭০ লাখ) ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয় মার্কিন এই বহুজাতিক কোম্পানিকে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত এ নির্দেশ দেন। তবে বেশ কয়েটি মামলায় আপিলের রায় জনসনের পক্ষে যায়।

    আবারও বাংলাদেশে আসছেন মেসি!

    আরও একবার কিংবদন্তি আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসিকে দেখার সুযোগ পেতে পারে বাংলাদেশ। তবে এবার কোন প্রীতি ম্যাচ নয়, আসতে পারেন ব্যক্তিগত সফরে। ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত পরিচয়ে সংস্থাটির কর্মকাণ্ড দেখতে আসবেন তিনি। মেসি এলে স্বাভাবিকভাবেই যুক্ত হওয়ার কথা শিশুদের সাথে। দীর্ঘ ৭ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে আসছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি- এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে।

    বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়, কোন ম্যাচ খেলতে নয়। উইনিসেফের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির পর্যবেক্ষণের জন্যই বাংলাদেশে আসবেন মেসি। মেসি চলতি মাসের ২২ তারিখ বাংলাদেশে আসছেন। ৪ ঘণ্টার মতো সময় দিবেন তিনি কক্সবাজারে।

    বাংলাদশের মাটিতে শুধু খেলে যাওয়া নয়, বিশ্বকাপ নিয়েও লাল সবুজ দেশটির সাথে পরিচিত এই তারকা। মেসির ফেসবুক পেজে কিছুদিন আগেই শেয়ার কার হয়েছিলো আর্জেন্টিনা নিয়ে এদেশের দর্শকদের উন্মাদনার কথা। তাই মেসির আসার গুঞ্জনই তৈরি করছে অন্যরকম উন্মাদনা। আগামী ২২ জুলাই তার আসার সম্ভাব্য তারিখ হলেও তা এখনও ঝুলে আছে অনেক ‘যদি/কিন্তু’র উপর।

    এদিকে মেসির সফর নিয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ ইউনিসেফের কর্মকর্তারা। সম্প্রতি মেসির সফরের বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন ইউনিসেফের মুখপাত্র অ্যালিস্টার লওসন। কিছু দিন আগে এই রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করে গিয়েছেন ঢালিউড ও হলিউডের নায়িকা প্রিয়াংকা। এর আগে ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নাইজেরিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে প্রথমবারের মত ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচের সাক্ষী হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম।

    গ্রীনল্যান্ডের গ্রামের দিকে ভেসে আসছে বিশাল আইসবার্গ

    পশ্চিম গ্রীনল্যান্ডের একটি গ্রামের দিকে এত বিশাল একটি আইসবার্গ বা সাগরে ভাসমান বরফখন্ড ভেসে আসছে যে – গ্রামটির কিছু বাড়ির বাসিন্দাকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, তারা জীবনে এত বড় আইসবার্গ দেখেন নি।

    ইন্নারসুইট গ্রামটি একটি কোণাকুণি পাথুরে জায়গার ওপর যার তিন দিকেই সমুদ্র। অতিকায় আইসবার্গটি তার চেয়েও বেশি উঁচু। আশংকা করা হচ্ছে, আইসবার্গটি যদি ভেঙে পড়ে তাহলে সাগরে যে ঢেউ তৈরি হবে, তা বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এমন ঘটনা বিরল নয়। গত বছরই উত্তর পশ্চিম গ্রীনল্যান্ডে এক ভুমিকম্পের পর সাগরে যে ঢেউ ওঠে তা মাটির ওপরের বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায়, এবং চার জন লোক মারা যায়।

    ইন্নারসুইট গ্রামের বাসিন্দা ১৬৯ জন। কিন্তু যাদের বাড়ি সাগরের একেবারে তীরে তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে – কারণ আইসবার্গটি তাদের খুব কাছে এসে গেছে এবং এখনো সামনের দিকে ভেসে আসছে। গ্রামের কাউন্সিল সদস্য সুজান এলিয়াসেন স্থানীয় এক পত্রিকাকে বলেছেন – আইসবার্গটির গায়ে ফাটল দেখা যাচ্ছে, তাই আমরা ভয় পাচ্ছি যে এটি যে কোন সময় ভেঙে পড়তে পারে। গ্রামটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র জ্বালানি তেলের ডিপোও সাগরের কাছেই।

    সম্প্রতি বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে দিয়েছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আইসবার্গ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। জুন মাসেই বিজ্ঞানীরা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন যাতে পূর্ব গ্রীনল্যান্ডে একটি হিমবাহ থেকে এক বিশাল আইসবার্গ আলাদা হয়ে যাবার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। গ্রীনল্যান্ড ঢেকে থাকা বরফের স্তরের আয়তন প্রায় ১৮ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার, এবং বরফের স্তর গড়ে দেড় কিলোমিটারেরও বেশি পুরু ।

    চলতি বছর বিশ্বে ৬৫ সাংবাদিক নিহত

    চলতি বছর সারাবিশ্বে ৬৫ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) মঙ্গলবার তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে। খবর এএফপি’র। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৫০ জন পেশাগত রিপোর্টার।

    এ বছর সাংবাদিক হত্যার যে পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে তা গত ১৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আগের চেয়ে সাংবাদিকরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ও এলাকা এড়িয়ে চলেছেন বলেই মৃত্যুর এই হার কমে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া এখনো সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ। আরএসএফ বলছে, সেখানে ১২ জন সংবাদকর্মী নিহত হয়েছেন। আর এর পরের অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। যেখানে ১১ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে।

    তবে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বিপজ্জনক দেশ হিসেবে উঠে এসেছে ফিলিপিন্সের নাম। যেখানে ২০১৬ সালে পাঁচজন সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
    সাংবাদিকদের নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুর্তেতের নেতিবাচক মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই এমনটা ঘটেছে বলে জানাচ্ছে আরএসএফ।
    তবে এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে দেশটিতে কোনো সাংবাদিক নিহত হয়নি।

    এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে চলতি বছর বাংলাদেশেও সাংবাদিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে। দৈনিক সমকালের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নিহত হন।

    ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

    ফিলিস্তিনের বাইতুল মোকাদ্দাস (জেরুজালেম) শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার যে ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন তার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে রাশিয়া।

    রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাইতুল মোকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছেন।

    রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদের সবগুলো প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানায় রাশিয়া। সেইসঙ্গে আরব দেশগুলোর শান্তি পরিকল্পনার প্রতিও রাশিয়ার সমর্থন রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ট্রাম্প বাইতুল মোকাদ্দাসের ব্যাপারে যে ঘোষণা দিয়েছেন তা একটি একতরফা পদক্ষেপ এবং এই ঘোষণা শান্তির পক্ষে যাবে না।-পার্সটুডে

    জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে বাইতুল মোকাদ্দাস বা জেরুজালেম শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের হাতে অধিকৃত শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কাজেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি দখলীকৃত শহরকে ইসরাইল নিজের রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না বলে বিশ্বের স্বাধীনচেতা প্রতিটি মানুষ মনে করছেন।

    এ ছাড়া, এই শহরে রয়েছে মুসলমানদের প্রথম ক্বেবলা আল-আকসা মসজিদ। ফিলিস্তিনি জনগণ বলছেন, এই শহর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং অন্য কোনো দেশ বা জাতির পক্ষে এর মালিকানা দাবি করার বিন্দুমাত্র অধিকার নেই।

    ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে তুরস্কে বিক্ষোভ

    ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার বিরুদ্ধে তুরস্কের রাজধানী আংকারা ও ইস্তাম্বুলে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ ঘোষণার তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেন।

    দুই শহরের বিক্ষোভই শান্তিপূর্ণ ছিল তবে বিক্ষুব্ধ জনতা কোথাও কোথাও কিছু কাগজে আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ করেন এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের পতাকা পোড়ান। বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে তুরস্কের পতাকা ও নানা রকম ফেস্টুন দেখা যায় যাতে লেখা ছিল “ফিলিস্তিন মুক্ত করুন।”
    বিক্ষোভকারীরা তুরস্কে ইসরাইলি কন্স্যুলেট ভবনের দেয়ালেও ফিলিস্তিন মুক্ত করার দাবিতে নানা স্লোগান লিখেছেন। এছাড়া, তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন ঘোষণার নিন্দা ও সমালোচনা করে দায়িত্বজ্ঞানহীন এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে।

    গতকাল (বধবার) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সারা বিশ্বের বিরোধিতা ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এছাড়া, তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে নেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

    এসিড আক্রান্ত জাবেদ হোসাইনকে সাথে নিয়ে এসিড চার্টারে স্বাক্ষর করলেন মেয়র জন বিগস

    টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র জন বিগস এসিড চার্টারকে সমর্থনের জন্য বারার সকল এসিড বিক্রেতার কাছে বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন। ৬ ডিসে“র, বুধবার টাউন হলে এসিড আক্রান্ত জাবেদ হোসাইনকে সাথে নিয়ে এ সংক্রান্ত বিশেষ চার্টারে স্বাক্ষরকালে মেয়র এই আহধ্বান জানান।
    এসিড বিক্রয়কালে কী ধরনের সতর্কতা অবল“ন করতে হবে তা এই চাটারে উল্লেখ রয়েছে। টাওয়ার হ্যামলেটসের বেশকটি এসিড বিক্রেতা প্রতিষ্টান ইতিমধ্যে মেয়রের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এতে স্বাক্ষর করেছেন।
    চার্টারে এসিড বিক্রেতাদের উদ্দেশ্যে যে সব নির্দেশনা রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো – অপ্রাপ্ত বয়স্ক এবং সন্দেহভাজনদের কাছে এসিড বিক্রি না করা – কাউন্সিলের উদ্যোগে এসিড বিক্রেতাদের জন্য বিশেষ ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহন চার্টারে স্বাক্ষর করে মেয়র বলেন, এসিড আক্রমন বন্ধে কঠোর আইন দরকার। আর এজন্য ৫টি প্রস্তাব রেখে হোম সেক্রেটারী বরাবরে বিশেষ পিটিশন দাখিল করেছি। কিন্তু আইনে এখনো কোন পরিবর্তন না আসায় এব্যাপারে গনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে একে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। আজকের চার্টার এই উদ্যোগেরই অংশ।

    মেয়র বলেন, সমাজের অংশ হিসাবে এধরনের ভয়ংকর অপরাধ দমনে আমাদের সবারই দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে এসিড বিক্রেতারা যদি এব্যাপারে বিশেষ সতর্ক হন তাহলে এক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আর এজন্য আমরা তাদের সাথে পার্টনারশীপ গড়ে তুলতে চাচ্চিছ। যারা এতে স্বাক্ষর করবেন তাদের জন্য আমরা বিশেষ ট্রেনিংয়েরও ব্যবস্থা করেছি। আশা করছি সমাজের স্বার্থে তারা এগিয়ে আসবেন এবং কাউন্সিলকে এব্যাপারে সহযোগিতা করবেন।
    মেয়র বলেন, আমরা ঘটনা ঘটার জন্য অপেক্ষা করতে পারিনা। আগে ভাগেই আমাদেরকে ব্যবস্থা নিতে হবে। মেয়রের চার্টারে সমর্থনকারী এসিড আক্রান্ত জাবেদ হোসাইন তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এব্যাপারে আমার অভিজ্ঞতা ভয়ংকর। আমার মতো আর কারো যাতে এধরনের অভিজ্ঞতা না হয় এজন্য এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। আমি মনে করি এসিড বিক্রেতাদের কিছুটা হলেও দায়িত্ব রয়েছে। চার্টারের মাধ্যমে তাদের সাথে যৌথভাবে কাজ করার জন্য মেয়র জন বিগসের উদ্যোগকে আমি সমর্থন জানাই। আমি মনে করি এটি একটি ভালো উদ্যোগ। এদিকে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ইতিমধ্যে বারার বিভিন্ন শপ তথা এসিড বিক্রেতাদের কাছে লিখিত ভাবে ষ্ক্রওয়ান শট ড্রেইন ক্লিনারম্ব বিক্রির ক্ষেত্রে সতর্কতা অবল“ের আহবান জানিয়েছে। বিশেষ করে যাদের বয়স ২১ বছরের নীচে তাদের কাছে এটি বিক্রি না করার জন্য অনুরুধের পাশাপাশি সন্দেভাজনদের পরিচয় জানতে অনুরুধ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য যে মেয়র গত সেপ্টে“রে হোম সেক্রেটারীর কাছে লিখিত পিটিশনের মাধ্যমে ৫ দফা দাবী তুলে ধরেন। পিটিশনে মেয়র প্রস্তাবিত ৫ দফা দাবী হচ্চেছ- ১. যথাযথ কারন ছাড়া এসিড বহনকে ছুরি বহনের মতোই অপরাধ হিসাবে গণ্য করতে হবে, ২. এসিড ক্রয়ে বয়সসীমা নির্ধারন করতে হবে, ৩. ক্যাশ দিয়ে এসিড বিক্রি নিষিদ্ধ করতে হবে। ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ড দিয়ে এসিড বিক্রি করা হলে অপরাধীকে চি?িত করা সহজ হবে, ৪. এসিডকে কম করোসিভ সম্পন্ন এবং ঘন করতে নির্মাতাদের চাপ দিতে হবে যাতে করে সহজে স্প্রে করা না যায় এবং ৫. এসিড বিক্রেতাদের স্থানীয় কাউন্সিলে রেজিস্টার করতে হবে (২০১৫ সালে কনজারভেটিভ সরকার কতৃক বাতিলকৃত) এবং স্পট চেকের জন্য কাউন্সিলকে ফান্ড দিতে হবে।

    ৩ জনকে গুলি করে মেরে পুলিশ কর্মকর্তার আত্মহত্যা

    প্রেমের সম্পর্কে বিচ্ছেদের জেরে হতাশ এক পুলিশ কর্মকর্তা ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে তিন জনকে গুলি করে হত্যা করেছেন। ওই পুলিশ প্রেমিকের নাম অরনাউদ মার্টিন।

    স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ নভেম্বর) রাতে এ ঘটনার পরে ও পুলিশ কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেছেন।
    স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ কর্মকর্তা অরনাউদ প্রেমিকার সঙ্গে গাড়িতে ঝগড়া করছিলেন। ঝগড়াল এক পর্যায়ে প্রেমিকার মাথায় গুলি করেন তিনি। এরপর গুলি করেন আরও দুই পথচারীকে। তার নির্বিচার গুলিতে আহত হন আরও তিন জন। আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের সারসেলেস এলাকার এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রবিবার (১৯ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে।

    অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিতে ২ সপ্তাহ সময় দিলো বৃটিশ পুলিশ

    অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি জমা দিতে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছে ওয়েলস ও ইংল্যান্ডের পুলিশ। এই সময়ের মধ্যে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিলে কাউকে শাস্তির মুখে পড়তে হবে না। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ব্যালিস্টিক ইনটেলিজেন্স সার্ভিস (এনএবিআইএস) এই অস্ত্র জমা দেওয়ার কর্মসূচি সমন্বয় করছে। ১৩ থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত অস্ত্র জমা দেওয়া যাবে।

    এনএবিআইএস জানায়, অজ্ঞতার কারণে অনেকের কাছে অবৈধভাবে অস্ত্র রয়েছে। সংস্থার প্রধান জো চিল্টন জানান, অস্ত্র জমা দেওয়ার ফলে তা অপরাধে কাজে লাগানোর ঝুঁকি এড়ানো যাবে।

    এই সময়ের মধ্যে যে কেউ অস্ত্র জমা দিলে কোনও মামলার মুখোমুখি হতে হবে না। কিন্তু পরে যদি কোনও অপরাধের সঙ্গে এসব অস্ত্রের সংশ্লিষ্টতা থাকে তাহলে ওই অস্ত্রের মালিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    ন্যাশনাল পুলিশ চিফ কাউন্সিলের হেলেন ম্যাকমিলান বলেন, অস্ত্র জমা দেওয়ার সময় কাউকে নাম বা ঠিকানা দিতে হবে না। ঝুঁকি এড়াতে আমরা অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করতে চাই।

    তিনি আরও বলেন, হতে পারে তা একটি পিস্তল কিংবা অন্য কোনও অস্ত্র। ১০১ নম্বরে ফোন করে নিকটবর্তী পুলিশ স্টেশনে অস্ত্র জমা দিতে পারে। যে কয়টি আগ্নেয়াস্ত্র আমরা উদ্ধার করব তাতে করে জীবন বাঁচানোর সুযোগ তৈরি হবে। ফলে সঠিক কাজ করুন, আপনাদের অবৈধ অস্ত্র জমা দিন।

    যেসব অস্ত্র এই সময়ে জমা দেওয়া যাবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে এয়ার গান, রাইফেল, শটগান ও পিস্তল। এই অস্ত্র জমা দেওয়া সপ্তাহের লক্ষ্য হচ্ছে, দুর্ঘটনাবশত যেসব মানুষের অস্ত্র রয়েছে সেগুলো উদ্ধার করা।

    এর আগে ২০১৪ সালেও এরকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ওয়েলস ও ইংল্যান্ডে। ওই সময় প্রায় ৬ হাজার অস্ত্র জমা পড়েছিল।

    অস্ত্র জমা দেওয়া সপ্তাহ সফল করতে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা জিম স্টকলি জানান, অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের শাস্তি হতে পারে। যদি এসব অস্ত্র দিয়ে অপরাধ ঘটানোর প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে কারাদণ্ডের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।

    যুক্তরাজ্যের পরিসংখ্যান কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট অপরাধের সংখ্যা ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ফের যুক্তরাষ্ট্রে কাউন্সিলর হলেন সিলেটের তাহসিনা

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির হেলডন নগর থেকে আবারো স্থানীয় সরকারের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন সিলেটের তাহসিনা আহমেদ।
    গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে তিনি আবারো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তাহসিনা আহমেদ হেলডন নগর থেকে স্থানীয় সরকারের কাউন্সিলর হিসেবে প্রথম দফায় ২০১৪ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
    এবার দ্বিতীয় দফায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে পুনরায় দায়িত্বগ্রহণ করেছেন।
    তাহসিনার পৈত্রিক বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপাশা গ্রামে। তার বাবার নাম আমিন আহমেদ ও মা দিলশান আহমেদ।
    দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর তাহসিনা আহমেদ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মানুষের সেবা করার মানসিকতা থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হেলডনে কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায় দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে বলে মনে করেন তাহসিনা।
    যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে কাজের পরিধি আরও বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাহসিনা।