• ?????: ইউরোপ

    গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অপরিহার্য উপাদান: ক্যামেরন

    গণতন্ত্র সমুন্নত ও রাজনীতিবিদদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক সাংবাদিকতা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
    এই স্বাধীন সাংবাদিকতা যে দেশের রাজনীতিবিদদের প্রায়ই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়, এ কথাও বলেন ক্যামেরন।
    গতকাল শুক্রবার দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকার অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার রাতে হাউস অব কমন্সে ওয়েস্টমিনস্টারের রাজনৈতিক প্রতিবেদকদের সম্মানে দেওয়া এক নৈশভোজে এসব কথা বলেন ক্যামেরন।
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম হাঁকডাকে ভরা, নাছোড় ধাঁচের, নিয়ন্ত্রণ অসাধ্য এবং সংশয়পূর্ণ, তা রাজনীতিবিদদের জীবন প্রায়ই অস্বস্তিকর করে তোলে। তবে ব্রিটিশ রাজনৈতিক প্রতিবেদনে অনুসন্ধান, তদন্ত ও খুঁটিনাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যে কাঙ্ক্ষিত বিষয় তুলে ধরা হয়, তা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে গণমাধ্যমের যে স্বাধীনতা, তা বিশ্বের বুকে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। এসব হচ্ছে গণতন্ত্র সংহত রাখার অপরিহার্য উপাদান।
    ক্যামেরন স্বীকার করেন, রাজনীতিবিদদের সঙ্গে দেশটির গণমাধ্যমের সম্পর্ক সাংঘর্ষিক। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের সমালোচনা করেন, আমরা আপনাদের ওপর খেপে যাই। এটা বারবার ঘটে। রাজনীতি ও জনজীবনকে মূল্য দিয়ে থাকি বলেই আমরা এর কেন্দ্রবিন্দুতে আছি।’

    চুরির টাকায় ফ্যাশন

    ৪১ বছর বয়সী অসুস্থ এক ব্যক্তির সেবিকা হিসেবে কাজ করছিলেন লরা নিকোলস (২৬)। সেই সুবাদে ওই ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টের গোপন নম্বর জানা ছিল তাঁর। পরে বিভিন্ন সময় হাতিয়েছেন প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা (১০ হাজার পাউন্ড)। সেই অর্থ ব্যয় করেছেন ফ্যাশনে। কিনেছেন নিজের পছন্দের পোশাক ও জুতো।
    গতকাল শুক্রবার ডেইলি মেইলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের পেমব্রুকশায়ারের হাউটনে ঘটনাটি ঘটে। শেষ পর্যন্ত তা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি হয়েছে। আগামী মাসে রায় ঘোষণা করা হতে পারে।
    আদালতে শুনানি থেকে জানা যায়, নিজের ঘরে ২৪ ঘণ্টাই ওই অসুস্থ ব্যক্তি অন্যের কাছ থেকে সেবা নেন। এমনকি নিজের ব্যাংক হিসেবের গোপন নম্বরও তিনি স্মরণ রাখতে অক্ষম। সেবা প্রদানকারী একটি কোম্পানির দলনেতা হিসেবে নিকোলস ওই অসুস্থ ব্যক্তিকে একসময় সেবা দিতেন। এই সুযোগে এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ওই ভুক্তভোগীর ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড চুরি করেছেন। চুরির অর্থ দিয়ে পোশাক, জুতা, হাতব্যাগ কিনেছেন। চুরির বিষয়টি স্বীকারও করেছেন তিনি।
    আইনজীবী এলি মরগান আদালতে দাবি করেন, নিকোলসের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে পোশাক, জুতো ও হাতব্যাগ পেয়েছে পুলিশ। নিকোলসের দাবি, তিনি নিজেই এগুলো কিনেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, অর্থগুলো চুরির।

    সুনন্দার শরীরে আঘাতের চিহ্ন

    ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শশী থারুরের স্ত্রী সুনন্দা পুশকারের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। তাঁর শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকেরা।

    আজ শনিবার নয়াদিল্লিতে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (এআইআইএমএস) তিনজন জ্যেষ্ঠ চিকিত্সকের নেতৃত্বে সুনন্দা পুশকারের ময়নাতদন্ত হয়। আজই লোধি রোডে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

    ফরেনসিক সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের প্রধান সুধীর গুপ্ত বলেন, ‘স্বচ্ছতার জন্য আমরা সুনন্দার ময়নাতদন্ত ভিডিও করেছি। এটা একটা অস্বাভাবিক মৃত্যু। ময়নাতদন্তে তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কিন্তু এ মুহূর্তে হলফ করে কিছু বলা যাচ্ছে না। কয়েক দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।’

    এদিকে স্ত্রী সুনন্দা পুশকারের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন শশী থারুর। প্রথমে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হলেও বেলা দুইটার দিকে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্বাভাবিক।

    গতকাল শুক্রবার রাজধানীর চানক্যপুরীর লীলা হোটেল থেকে ৫২ বছর বয়সী সুনন্দার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    গতকাল দিল্লিতে কংগ্রেসের সভায় ব্যস্ত সময় কাটিয়ে সন্ধ্যায় কয়েকজন সহকর্মীকে নিয়ে লীলা প্যালেস হোটেলে স্ত্রীর কাছে যান শশী থারুর। কিন্তু হোটেলে কক্ষটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। এ সময় সহযোগিতা চাইলে হোটেলের কর্মীরা তালা খোলেন এবং সেখানে সুনন্দার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। আজই তাঁদের হোটেল ছাড়ার কথা ছিল। নিজের বাড়িতে রঙের কাজ শুরু হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার তাঁরা দুজনে লীলা হোটেলে ওঠেন। তবে তাঁরা ওই হোটেলের ৩৪২ ও ৩৪৫ নম্বর কক্ষে আলাদা আলাদা থাকতেন।

    ২০১০ সালে দুবাইভিত্তিক ব্যবসায়ী সুনন্দার সঙ্গে বিয়ে হয় শশী থারুরের। এটা দুজনেরই তৃতীয় বিয়ে।

    মন্ত্রীর পারিবারিক কলহের খবর প্রকাশিত হওয়ায় সুনন্দা আত্মহত্যা করতে পারেন বলে পুলিশের ধারণা। এ কারণে লীলা প্যালেস হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ, সুনন্দার মুঠোফোনের কললিস্ট ও টুইটার অ্যাকাউন্টও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    কয়েক দিন ধরে পাকিস্তানি নারী সাংবাদিক মেহর তারার সঙ্গে টুইটারে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন সুনন্দা। মেহর পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট এবং তাঁর স্বামীকে ফুসলানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মেহর বলেন, শশী থারুরের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। সুনন্দার মৃত্যুর পর এক টুইটে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। এর আগে সুনন্দাকে ইঙ্গিত করে এক টুইটার বার্তায় মেহর বলেন, ‘সোনালি চুলো ওই নারীর মস্তিষ্ক তাঁর ব্যাকরণজ্ঞান ও বানানের চেয়েও দুর্বল।’

    সুনন্দা দাবি করেছিলেন, তাঁর স্বামী শশীকে মেহরের পাঠানো একটি বার্তায় লেখা ছিল, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি, শশী থারুর। তোমার সঙ্গে যখন প্রেম করি, তখন নিজেকে সামলাতে পারি না। আমার ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়। মনে রেখো, মেহর সব সময়ই তোমার।’ সুনন্দার দাবি, গত বছরের এপ্রিল থেকে এই ‘আহাম্মক পাকিস্তানি সাংবাদিক শশীর পেছনে লেগে আছেন’।

    এদিকে সুনন্দার মৃত্যুতে শশী থারুরকে সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। সুনন্দার মৃত্যুর পর থেকে কেরালায় শশী থারুরের বাড়ি ও অফিসে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি ও ডন ডটকম

    টাইমের চোখে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আরেক সমস্যা’ মোদি

    ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবড়াগাড়কে গ্রেপ্তারের জের ধরে সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল। আপাতত সেটি একটু থিতু হয়েছে। তবে ভারতের সামনের নির্বাচনে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে দেশ দুটির সম্পর্কে আবার টানাপোড়েন শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম’।

    আইএএনএস বলছে, ‘টাইমে’র আসছে ২৭ জানুয়ারিতে প্রকাশিতব্য সংখ্যায় যে সংবাদটি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, তাতে এক প্রতিবেদনে মোদিকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য ‘আরেক সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    নিউইয়র্কে নিযুক্ত ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানীকে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এক গৃহকর্মীকে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সময় ভিসার আবেদনপত্রে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেয় ভারত। কূটনৈতিক দায়মুক্তির সুবাদে এক সপ্তাহ আগে দেশে ফিরে আসেন দেবযানী।

    ‘টাইম’ সাময়িকীতে মাইকেল ক্রাউলের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কটা দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠবে, এমন আশা করা ঠিক হবে না। এমনকি আগামী দিনে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। কারণ, আরও প্রভাবশালী এক ভারতীয়ের সঙ্গে ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা রয়েছে।

    ২০০৫ সালে মোদিকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায় যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০০২ সালে গুজরাটে হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উসকানি দিয়েছিলেন তিনি। সেই মোদি হতে পারেন ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। আগামী মে মাসে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তাঁর দল বিজেপির অবস্থান বেশ শক্তিশালী। মোদি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘গ্রহণযোগ্য নন’ উল্লেখ করে ‘টাইম’ সাময়িকীর প্রতিবেদনে বলা হয়, মোদির সমালোচকেরা মনে করেন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উসকানিদাতা ছিলেন মোদি। কিন্তু ভারতের কোনো আদালত তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের প্রমাণ পায়নি। মোদি যখন ভারতের জাতীয় নেতা ছিলেন না, তখন তাঁকে ভিসা না দেওয়াটা অযৌক্তিক মনে হয়নি। তবে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলে ওয়াশিংটন কি তাঁকে কালো তালিকায় রাখতে পারবে?

    মোদির ভিসা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা বিভক্ত উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আনা এক প্রস্তাবে মোদিকে ভিসা না দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

    তবে মার্কিন বাস্তববাদী ও ব্যবসায়ী নেতারা তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে অনুমতি দেওয়ার পক্ষে। তাঁদের মতে, নয়াদিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সুদূরপ্রসারী সম্পর্কের ব্যাপারটা মাথায় রেখেই শুধু মোদিকে মূল্যায়ন করা উচিত। ব্যবসায়ীদের এমন মতামতের কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে ক্রাউলে বলেছেন, মোদি যেভাবে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য ভারতের মাটি উন্মুক্ত করে দিতে চান, সেটি মার্কিন ব্যবসায়ীদের জন্য খুবই লোভনীয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, মোদি নির্বাচনে জিতে গেলে তাঁকে ভিসা দিতে ওবামা প্রশাসনের ওপর দেশি-বিদেশি চাপ বাড়বে। দুই দেশকেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং মোদির অতীত কর্মকাণ্ড যাতে ওই যৌথ পথচলাকে দ্বিধান্বিত করে না দেয়, সে ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে।