• চলতি বছর বিশ্বে ৬৫ সাংবাদিক নিহত - ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি - বুধবার মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করবে হেফাজত - রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনকে মধ্যস্থতার আহ্বান খালেদা জিয়ার - ‘জাহান্নামে যাওয়ার জন্য তৈরি হোন’, অ্যাটর্নি জেনারেলকে হুমকি - ক্ষমা না চাইলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: ফখরুল - এরশাদের পতন: পর্দার আড়ালে যা ঘটেছিল - ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে তুরস্কে বিক্ষোভ - সাবেক রাষ্ট্রদূত জামানের খোঁজ মেলেনি, নানা রহস্য - বলিউডে পুরুষরা বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে: সোনাক্ষী - 'রসিক নির্বাচনে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে' - মৌলভীবাজারে ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের সংর্ঘষে নিহত ২

    ?????: আরব বিশ্ব

    সৌদি আরবে রাজপ্রসাদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ!

    সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ব্যালিস্টিক মিসাইল (ক্ষেপণাস্ত্র) নিক্ষেপ করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। আজ মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভি আল আরাবিয়ার বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, রিয়াদে আল ইয়ামামা রাজপ্রসাদ লক্ষ্য করে ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

    রিয়াদের একাধিক ব্যক্তি জানান, তাঁরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ধোঁয়ার ছবিও প্রকাশ করা হয়। তবে ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধ করেছে সৌদি আরবের বিমান বাহিনী।

    হুতি বিদ্রোহীদের টিভি আল মাসিরাহ জানিয়েছে, তাঁদের যোদ্ধারা ইয়ামামা রাজপ্রসাদ লক্ষ্য করে ‘বুরকান ২’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

    দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, রিয়াদের ওই রাজপ্রসাদে সৌদি নেতাদের বৈঠক ছিল। রাজপ্রসাদের মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুস সালাম টুইটারে জানিয়েছেন, রাজপ্রাসাদে সৌদি নেতাদের বৈঠক লক্ষ্য করে ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোঁড়া হয়।

    বায়তুল মুকাদ্দাস: ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পরিণামে কী ঘটতে পারে?

    মুসলিম বিশ্বের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে বায়তুল মুকাদ্দাস (জেরুজালেম)-কে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিঃসন্দেহে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে। প্রথমত, শান্তি আলোচনার চূড়ান্ত মৃত্যু ঘটবে। অবশ্য বহু দিন ধরেই শান্তি আলোচনা বন্ধ রয়েছে, কিন্তু আলোচনা আবারও শুরু হবে বলে অনেকেই আশা করছিলেন। এক কথায় বলা যায়, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের ফলে শান্তি আলোচনার কোনো অস্তিত্ব আর থাকবে না।
    দ্বিতীয়ত, বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ধারণার কবর রচিত হওয়া। কারণ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হবে পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস।

    তৃতীয়ত, ট্রাম্পের ধারণার বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল বিরোধী তৎপরতা আরও বাড়বে। ট্রাম্প ধারণা করছেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রভাবশালী আরব দেশগুলোর সরকার তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব দেশের প্রতিবাদ বেশি দূর এগোবে না। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই ট্রাম্পের মধ্যে এ ধরণের ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের হয়তো এ তথ্য জানা নেই যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সরকার ও জনগণের নীতি-আদর্শ ও সাহসিকতার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।

    এ ক্ষেত্রে ২০১১ সালে মিশরে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীই উদাহরণ হিসেবে যথেষ্ট। প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে মিশর ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি সই করে। কিন্তু দেশটির মানুষ কখনোই ওই চুক্তি মেনে নিতে পারে নি। এ কারণে ২০১১ সালে ইসলামি গণজাগরণের পর কায়রোতে অবস্থিত ইসরাইলের দূতাবাসের কংক্রিটের দেওয়াল ভেঙে সেটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় জনতা। এ ঘটনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষ শুধুই সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। সুযোগ পেলে তারাই ইসরাইলের অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেবে।

    চতুর্থত, ফিলিস্তিন ইস্যুটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মতৈক্য তৈরি হবে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া থেকেও বিষয়টি অনুমান করা যাচ্ছে। শুধু তাই নয় কোনো কোনো মুসলিম দেশে ইসরাইলি দূতাবাস বন্ধও হয়ে যেতে পারে।

    এসবের বাইরেও আরেকটি প্রভাব লক্ষ্য করা যাবে তাহলো, ২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া কুদস ইন্তিফাদা বা গণঅভ্যুত্থান জোরদার হবে। এমনকি নতুন যুদ্ধের ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই গতরাতে গাজা ও পশ্চিমতীরের মানুষ রাস্তায় নেমে এসে প্রতিবাদ শু্রু করেছে এবং মার্কিন পতাকায় আগুন দিয়েছে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ঐক্য আরও জোরদার হবে।

    আসলে ট্রাম্পের গতরাতের সিদ্ধান্ত থেকে এটা স্পষ্ট তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এর পরিণামের বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করার ক্ষমতা রাখেন না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এক বছর দায়িত্ব পালনের পরও তার মধ্যে এ অনুভূতি জাগ্রত হয় নি যে, তিনি এমন একটি পদে আসীন হয়েছেন যেখান থেকে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত গোটা বিশ্বকে অশান্ত করে তুলতে পারে।

    ফিলিস্তিনে নতুন গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছে হামাস

    জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের ঘোষণা ফিলিস্তিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হামাসের পলিটিক্যাল ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়া। তিনি ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে আরেকটি গণ-অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার গাজায় দেয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।

    তিনি বলেন, শুক্রবার দিনব্যাপী বিক্ষোভ আন্দোলনে যোগ দিয়ে একটি নতুন গণ-অভ্যুত্থান শুরু করার জন্য আমরা ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

    হানিয়া আরো বলেন, আগামীকাল আমাদের লোকেরা দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ইন্তিফাদা (গণ-অভ্যুত্থান) শুরু করবে। বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী।

    তিনি বলেন, হামাসের সকল ইউনিটকে যে কোন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    তিনি মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া ভেঙ্গে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

    এদিকে, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যকে আগুনের গোলায় মধ্যে ঠেলে দেবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার গ্রিস সফরের উদ্দেশ্যে রাজধানী আঙ্কারা ত্যাগ করার পূর্বে এসেবোগা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদেরকে তিনি এই কথা বলেন।

    ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘হে ট্রাম্প, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আপনি কী করতে চাচ্ছেন?’

    তিনি বলেন, ‘এই ধরনের পদক্ষেপ এই অঞ্চলকে একটি আগুনের গোলার মধ্যে নিক্ষেপ করবে।’

    গত কয়েক দশকের মার্কিন নীতির প্রথা ভঙ্গ করে বুধবার হোয়াইট হাউজের কূটনৈতিক অভ্যর্থনা কক্ষে দেয়া ভাষণে জেরুজালেমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাসকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান।

    যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণায় ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠতে পারে।

    বুশ ও ক্লিনটন প্রশাসনের সাবেক উপদেষ্টা এবং উড্রো উইলসন সেন্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যারন ডেবিড মিলার বলেন, ‘জেরুজালেমের স্থিতাবস্থায় কোনো আঘাত করলে এটির জ্বলে ওঠার প্রবণতা রয়েছে।’

    এরদোগান বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের উচিৎ শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, আগুন জ্বালিয়ে দেয়া নয়।’

    জেরুজালেমকে খ্রিস্টানদের জন্যও একটি পবিত্র স্থান উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি নিয়ে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানান।

    এর আগে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এরদোগান। তিনি জেরুজিালেমকে মুসলিমদের জন্য একটি রেড লাইন বলে তিনি সর্তক করে দিয়েছিলেন।

    এদিকে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ নিয়ে করণীয় নির্ধারণে আগামী ১৩ ডিসেম্বর ওআইসির জরুরি বৈঠক ডেকেছে তুরস্ক।

    তুর্কি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বুধবার বলেছেন, জেরুজালেম ইস্যুতে স্পর্শকাতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় আগামী ১৩ ডিসেম্বর ওআইসি’র সদস্য দেশগুলোর নেতারা ইস্তাম্বুলে বৈঠকে বসবেন। মুসলিম দেশগুলো জেরুজালেমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের ঘোষণা দিতে পারেন বলে জানা গেছে।

    ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইনতিফাদা’র ঘোষণা হামাসের, শুক্রবার ক্ষোভ দিবস পালনের আহ্বান

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেয়ায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে নতুন করে অভ্যুত্থান ঘোষণা করেছে ফিলিস্তিনের ইসলামপন্থি শক্তিশালী সংগঠন হামাস। হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়েহ গাজায় বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বলেন, ইহুদিবাদী শত্রুদের বিরুদ্ধে আরেকটি ইনটিফাদার আহ্বান জানাই আমরা এবং তা চালুর জন্য আমাদের কাজ করা উচিত। মে মাসে হামাসের প্রধান নির্বাচিত হন ইসমাইল হানিয়ে। তিনি ফিলিস্তিনি, মুসলিম ও আরবদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, শুক্রবার দিনটি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে র‌্যালি করুন আপনারা।
    এ দিনটিকে তিনি ‘ক্ষোভ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি ঘোষণায় বলেন, দখলদারদের বিরুদ্ধে ৮ই ডিসেম্বর হোক আমাদের ইনটিফাদা’র প্রথম দিন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, হামাসকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেখে থাকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইলের অস্তিত্ব স্বীকার করে না হামাস। এ সংগঠনের আত্মঘাতী বোমারুরা ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত শেষ ইনটিফাদা’য় সহায়তা করেছিল। ইসমাইল হানিয়ে বলেন, জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের জন্য হুমকি এমন কৌশলগত কোনো বিপদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য সব হামাস সদস্য ও এর শাখা প্রশাখাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাদেরকে নতুন নির্দেশনার জন্য পূর্ণ প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকা ও ইসরাইল দখলীকৃত পশ্চিম তীরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একীভূত জেরুজালেম হলো আরব ও মুসলিমদের। এটা হলো ফিলিস্তিনি, সব ফিলিস্তিনির রাজধানী। এ সময় তিনি পশ্চিমাদের সমর্থন পাওয়া ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের প্রতি আহ্বান জানান ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসতে। আহ্বান জানান ট্রাম্প প্রশাসনকে বর্জনের। ইসমাইল হানিয়ে বলেন, এটা ঘোষণা করা যেতে পারে যে, তথাকথিত শান্তি চুক্তির কবর রচনা হয়েছে। শান্তিচুক্তিতে অংশীদার ফিলিস্তিনি বলে আর কিছুই নেই।

    জেরুজালেম ইস্যুতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সৌদি আরব

    ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয়ের কাছে পবিত্র ভূমি হিসেবে গণ্য জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। হোয়াইট হাউসে বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষণে ইসরাইলের রাজধানীতে তেলআবিবের পরিবর্তে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এরকম ঘোষণা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সৌদি আরব।

    জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়ার প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলেও সৌদি রয়াল কোর্টের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। তাছাড়া, ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেমে স্থানান্তরে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ডেকে আনবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে তুরস্ক, জর্ডানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। উল্লেখ্য, ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নিজেদের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তখন তাদের সমর্থন দেয়নি। পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরায়েলি দখলদারত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনে প্রথম ইন্তিফাদার (এর অর্থ গণ-অভ্যুত্থান) সূচনা হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। ১৯৯৩ সালে ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে। ওই শান্তি চুক্তি অনুযায়ী, ফিলিস্তিনও চায় পূর্ব জেরুজালেম তাদের রাজধানী হবে।

    এদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

    ট্রাম্পের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যকে আগুনের মধ্যে ঠেলে দেবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, হে ট্রাম্প, আপনি কী করতে চান? এটা কী ধরনের আচরণ। রাজনৈতিক নেতা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান, তারা কোনো বিষয়কে অচল করেন না। তাছাড়া, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মিছিলের ডাক দিয়েছেন। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’, ‘সাহসী ও সঠিক সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের কাছে পবিত্র এই শহরের স্থাপনায় কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন।

    সৌদি বাদশাহী পাচ্ছেন যুবরাজ সালমান

    সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আগামী সপ্তাহে পদত্যাগ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। তার পদত্যাগের পরই ছেলে মুহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবের ক্ষমতা নেবেন।

    সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের ডেইলি মেইল এমন খবরই দিয়েছে। খবরে বলা হচ্ছে, নিজের ছেলেকে ক্ষমতায় বসাতে তিনি সরে যাচ্ছেন। ডেইলি মেইলের বরাত দিয়ে বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেছে। খবরে অবশ্য নির্ভরযোগ্য কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র উল্লেখ করা হয়নি। সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ওই সূত্র ডেইলি মেইলকে জানিয়েছে, ‘নাটকীয় কিছু না ঘটলে আগামী সপ্তাহেই ছেলে মুহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বাদশাহ সালমান। ’ পশ্চিমা বিশ্ব ও সাংবাদিকরা মুহাম্মদ বিন সালমানকে সংক্ষেপে ‘এমবিএস’ নামে লিখে থাকেন। ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর বাদশাহ সালমানের দায়িত্ব হবে অনেকটা ইংল্যান্ডের রানীর মতো। সূত্র জানায়, যদি নাটকীয় কোনো ঘটনা না ঘটে তবে আগামী সপ্তাহে সৌদি আরবের বাদশাহ হতে যাচ্ছেন মুহাম্মদ বিন সালমান। বাদশাহ হিসেবে মুহাম্মদ বিন সালমান দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘পবিত্র দুই মসজিদের জিম্মাদার’ থাকবেন সালমান বিন আবদুল আজিজ। সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির বাদশাহ পবিত্র কাবা ও মসজিদে নববীর জিম্মাদারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সালমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে এই প্রথমবারের মতো বাদশাহর বাইরে কারও হাতে মসজিদ দুটির দায়িত্ব থাকবে। ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান সাম্প্রতিক সময়ের এক আলোচিত নাম। চলতি মাসের শুরুতে তিনি দুর্নীতিবিরোধী ওই অভিযান শুরু করেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নেতৃত্ব দিতেও তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানকে কোণঠাসা করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। বিন সালমান ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। গত জুনে ক্রাউন প্রিন্স নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে অনেকটা ‘বেপরোয়া’ হয়ে ওঠেন তিনি। এ পর্যায়ে তিনি ২০৩০ সালকে নির্দেশ করে সৌদি আরবের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক পদক্ষেপ ঘোষণা করেন। তেলনির্ভরতা কাটিয়ে, পদ্ধতিগত দুর্নীতি থেকে মুক্তি এবং ধর্মীয় কট্টরপন্থা থেকে বেরিয়ে একটি ‘মধ্যপন্থি’ সমাজে দেশকে উত্তরণের প্রতিজ্ঞাও করেন তিনি। কর্মক্ষেত্রে আরও অধিক হারে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। সম্প্রতি নারীদের গাড়ি চালানো, তাদেরকে স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখার মতো সুযোগও করে দিয়েছেন তিনি। ডেইলি মেইল

    ইরাকে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ৫

    ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৫ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছেন।

    স্থানীয় সময় রবিবার রাত ৯টার দিকে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে।
    জানা যায়, দেশটির উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে ৮টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    সৌদি আরবের এতো ঘটনার নেপথ্যের কারণ

    সৌদি আরবে এখন অনেক বড় বড় ঘটনা ঘটছে। দেশটিতে রাজপরিবারের সদস্য, মন্ত্রী, শীর্ষ ব্যবসায়ীরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন। তাদেরকে বিলাসবহুল হোটেলে আটকে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হচ্ছে, ব্যক্তিগত বিমানগুলো আটকে রাখা হয়েছে এবং সম্পত্তি জব্দ করা হচ্ছে।

    এসব কিছুর পেছনে রয়েছে ৩২ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান, যিনি সদ্য গঠিত দুর্নীতি দমন কমিটিরও প্রধান। কিন্তু এত কিছু কেন ঘটছে? এর কারণ কী শুধুই দুর্নীতি? নাকি যুবরাজের ক্ষমতা আয়ত্তের কৌশল? উত্তরটা হলো, দুটোই।

    দুর্নীতি সৌদি আরবে প্রচলিত একটি ব্যাপার। তেল সম্পৃদ্ধ এই দেশটিতে ব্যবসা করতে গেলে ঘুষ বা উপঢৌকন দেয়া যেন ব্যবসারই একটি অংশ। সেখানে যারা গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় বসে আছেন, তাদের অনেকেই অকল্পনীয় সম্পদের মালিক। কিন্তু সরকারি বেতনে এত অর্থ উপার্জন সম্ভব না। তাদের বেশিরভাগ সম্পদই এসেছে বিভিন্ন অফ শোর একাউন্ট থেকে।

    সৌদি আরবের এই ধনাঢ্য কিছু ব্যক্তির পেছনেই লেগেছেন যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান, আর তাকে সমর্থন দিচ্ছেন তার পিতা ৮১ বছর বয়সী বাদশাহ সালমান। তিনি একটি বার্তা দিতে চান যে, ব্যবসার পুরনো রীতিনীতি আর চলবে না। সৌদি আরবের এখন সংস্কার দরকার এবং একুশ শতকের সঙ্গে তাল মেলাতে একটি আধুনিক জাতি হয়ে ওঠা দরকার। এসব গোপন বা অফশোর হিসাবের অর্থও পেতে চাইছে সৌদি সরকার। অর্থের হিসাবে যা হবে আনুমানিক প্রায় ৮০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    কিন্তু এর শেষ কোথায়? দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল এর মধ্যেই জানিয়েছেন, প্রথম ধাপের মাত্র সমাপ্তি হয়েছে। তার মানে সামনে আরো অনেকে গ্রেফতার হতে যাচ্ছেন। যদিও ক্ষমতাসীন আল সৌদ পরিবার কখনোই প্রকাশ করেনি, দেশটির তেল বিক্রির কি পরিমাণ অর্থ রাজপুত্র বা রাজপরিবারের সদস্যদের পেছনে খরচ হয়, যাদের সংখ্যা কয়েক হাজার।

    ২০১৫ সালে যুবরাজ নিজেই ৫০০মিলিয়ন ইউরো (৫০০০ কোটি টাকা) খরচ করে রাশিয়ান এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একটি বিলাসবহুল ইয়াট কিনেছেন বলে শোনা যায়। এখন অনেক সৌদি সাধারণ নাগরিকের আশা, বিত্তশালীদের এসব সম্পদ সাধারণ মানুষের পেছনেই খরচ করা হবে। যদিও এই তদন্তের শেষ ঠিক কোথায় হবে, তা পরিষ্কার নয়।

    তবে শুধু এসব বিষয়ই নয়, পুরো ঘটনার সঙ্গে ক্ষমতার যোগসূত্র আছে। ৩২ বছর বয়সী যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান বা এমবিএস, যে নামেও তিনি পরিচিত, এর মধ্যেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র গুলোয় ক্ষমতা করায়ত্ত করেছেন। তিনি এখন বিশ্বের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি দেশে একটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা চালু করেছেন, যার উদ্দেশ্য দেশের তেল নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা।

    পিতার প্রিয় পুত্র হিসাবে তিনি দেশটির সর্বময় ক্ষমতাশালী রাজকীয় আদালতও পরিচালনা করেন। তার ঘনিষ্ঠ মিত্রও রয়েছে। ওয়াশিংটন সফর এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিয়াদ সফরের পর হোয়াইট হাউজের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের সঙ্গে একটি লড়াই এবং কাতারের সঙ্গে ব্যর্থ বয়কটের সিদ্ধান্তের পরেও তিনি দেশের তরুণদের কাছে যথেষ্ট জনপ্রিয়।

    তবে তার কিছু শত্রুও আছে। সৌদি আরবের ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী যেমন কিছুটা শঙ্কায় রয়েছে। সাবেক বাদশাহ আব্দুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে ছিল এই বাহিনী। এরপর থেকে তার ছেলে প্রিন্স মিতেব বিন আবদুল্লাহ পরিচালনা করতেন। কিন্তু গত শনিবার তাকে এই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে সমর্থনকারী গোষ্ঠী আর গোত্র নেতারাও সংশয়ে পড়ে গেছেন।

    যুবরাজ জানেন, তিনি যেসব সংস্কার পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছেন, অনেকেই তার বিরোধিতা করবে। তবে তিনি এখন কিছু উদাহরণ দেখাতে চান যে, তার পরিকল্পনায় যেই বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের তিনি সরিয়ে দেবেন। রাজকীয় পরিবারের অনেক সদস্যরা চিন্তিত যে, তিনি খুব তাড়াতাড়ি অনেক বড় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তবে তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, দেশটির ধর্মীয় নেতারা এসব পদক্ষেপকে কিভাবে দেখবেন? যাদের সমর্থনের উপরে আল সৌদ পরিবার অনেকটাই নির্ভরশীল।

    ক্ষমতা করায়ত্ত করার এসব প্রচেষ্টা আর নারীদের গাড়ি চালনার অনুমতি দেয়ার মতো বিষয়গুলো তারা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু পশ্চিমা ধাপের বিনোদন, সিনেমা হল চালুর মতো বিষয়গুলো তারা কিভাবে নেবেন, তা পরিষ্কার নয়। বিশেষ করে তরুণদের চাকরির যেসব প্রতিশ্রুতি যুবকরা সালমান দিয়েছেন, তার রক্ষা করাও তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব পদক্ষেপ কি উন্নত, স্বচ্ছ সৌদি আরবের দিকে নিয়ে যাবে, নাকি দেশটিকে আরো জটিলতার দিকে ঠেলে দেবে, তা হয়তো সময়ই বলে দেবে।

    ইরানকে হুমকি দিল সৌদি আরব

    ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে সঠিক সময়ে এবং পন্থায় যথাযথ জবাব দেয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি আরবের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর রিয়াদের পক্ষ থেকে এ হুমকি দেয়া হলো।

    গতকাল (রোববার) সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব দেশগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে সৌদি রাজধানী রিয়াদে ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। ইয়েমেনের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী হুথি আনসারুল্লাহ এবং দেশটির সেনাবাহিনী সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এসব বাহিনী সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোটের বিরুদ্ধে শুরু থেকে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।

    ইরান হুথি আনসারুল্লাহ বাহিনীকে আর্থিক এবং সামরিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে বলে রিয়াদ এবং তার মিত্রদেশগুলো অভিযোগ করে আসছে। তবে ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং সৌদি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইয়েমেনি জনগণের লড়াইয়ের প্রতি তেহরানের সমর্থন রয়েছে।

    সৌদি জোট গতকালের বিবৃতিতে আরো দাবি করেছে, হুথি যোদ্ধারা ইরানের সরাসরি কমান্ডের অধীনে কাজ করছে। তাই জোটের কমান্ড বিবেচনা করছে যে, “এটি ইরানের স্পষ্ট সামরিক আগ্রাসনের শামিল এবং এটিকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা হিসাবে বিবেচনা করা হতে পারে।”

    ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে জোট তার বিবৃতিতে আরো বলেছে, জোটের কমান্ড দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছে যে, “ইরানের বিরুদ্ধে সঠিক সময়ে এবং পন্থায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দেয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে সৌদি আরব।”

    দুর্নীতি দমন অভিযানে সৌদি আরবে রাজপুত্র, মন্ত্রীসহ বহু আটক

    সৌদি আরবে নব গঠিত একটি দুর্নীতি দমন কমিটি দেশটির ১১জন রাজপুত্র, বর্তমান মন্ত্রী এবং বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীকে আটক করেছে। সৌদি ন্যাশনাল গার্ড এবং নৌবাহিনী প্রধানের পদেও করা হয়েছে রদবদল। সৌদি যুবরাজ, মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রধান করে, শনিবার সৌদি বাদশাহ নিজে একটি দুর্নীতি দমন কমিটি গঠন করেন।

    সদ্য গঠিত এই কমিটিই ১১জন রাজপুত্র, চারজন বর্তমান মন্ত্রী এবং প্রায় ডজন খানেক সাবেক মন্ত্রীকে আটক করেছে বলে জানা যাচ্ছে।

    আটককৃতদের নাম এবং তাদেরকে আটক করার কারণ সম্পর্কে এখনো কিছুই স্পষ্ট করা হয়নি।

    তবে, সৌদি গণমাধ্যম আল-অ্যারাবিয়া জানিয়েছে, ২০০৯ সালে সৌদিতে যে বন্যা হয়েছিল এবং ২০১২ সালে মার্স ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার যে ঘটনা ঘটেছিল এই বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। নতুন এই কমিটি গঠন করার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করার ঘটনা ঘটলো।

    সৌদি আরবের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, যুবরাজকে প্রধান করে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেখানে যুবরাজ চাইলে যে কাউকে গ্রেপ্তার করার এবং যে কারো উপরে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেবার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

    সৌদি ন্যাশনাল গার্ড এবং নৌবাহিনী প্রধানের পদেও রদবদল আনা হয়েছে।

    যুবরাজ সালমান ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রী প্রিন্স মিতেব বিন আব্দুল্লাহকে এবং নেভি কমান্ডার এডমিরাল আব্দুল্লাহ বিন সুলতান বিন মোহাম্মদ আল সুলতানকে বরখাস্ত করেছেন বলে জানিয়েছে এসপিএ। তবে, তাদের কেন পদচ্যুত করা হয়েছে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।