• ?????: Uncategorized

    সাংবাদিকদের সবচেয়ে বেশি জেল হয় চীনে

    বিশ্বে চীনা সাংবাদিকরাই সবচেয়ে বেশি কারাবন্দি থাকেন। ১৮০টি দেশের মধ্যে জরিপ চালিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে রিপোর্টাস উইদাউট বর্ডার (আরএসএফ)। ১৮০টি দেশের মধ্যে তাদের অবস্থান ১৭৬ তম। এ কারণে ওই প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের জন্য চীনকে সবচেয়ে বিভীষিকাময় দেশ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    আর খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সাংবাদিককে নিহত হয় পাকিস্তানে। রিপোর্টে ৬০ জন এমন সাংবাদিকদের কথা বলা হয়েছে যারা ১৯৯৪ সালের পর পাকিস্তানে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। যদিও সূচক অনুযায়ী ভারতের ঠিক তিন ধাপ নীচেই রয়েছে পাকিস্তান।

    চীনের চাইতেও বেশি খারাপ উত্তর কোরিয়া ও যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার। তালিকায় এই দুই দেশেরই স্থান যথাক্রমে ১৮০ ও ১৭৭। ভিয়েতনাম রয়েছে ১৭৫ তম স্থানে। নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক এবং দ্য নেদারল্যান্ড সূচকের একেবারে প্রথম পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে। এই সমীক্ষা ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সাংবাদিকদের উপর হিংসার ঘটনা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, কাজের পরিবেশ, সেন্সরশিপ, সাংবাদিকদের জন্য আইনি কবচ, স্বচ্ছতা এবং পরিকাঠামো – ইত্যাদি বিষয়গুলি প্রাধান্য পেয়েছে।

    হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ফ্রিডম পার্টির ১১ নেতাকর্মীকে আলাদা রায়ে যাবজ্জীবন ও ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টায় বিস্ফোরক আইনের মামলায় ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং হত্যাচেষ্টা ও অপরাধজনক ষড়যন্ত্রের মামলায় প্রত্যেককে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জাহিদুল কবির গতকাল পৃথক সময়ে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। বিকেলে বিস্ফোরক আইনের মামলার রায় ঘোষণা করা হয় ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতের সংশ্লিষ্ট এজলাসে। আর হত্যাচেষ্টা মামলার রায় দুপুরে ঘোষণা করা হয় পুরাণ ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে স্থাপিত বিশেষ আদালতে।

    প্রায় তিন দশক আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টায় বিস্ফোরক আইনের মামলার রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি খন্দকার আবদুর রশীদ রয়েছেন।

    অন্য ১০ আসামি হলেন- মো. মিজানুর রহমান, জর্জ, মো. শাজাহান ওরফে বালু, গোলাম সরোয়ার ওরফে মামুন, মো. সোহেল ওরফে ফ্রিডম সোহেল, জাফর আহম্মেদ ওরফে মানিক (পলাতক), সৈয়দ নাজমুল মাকসুদ ওরফে মুরাদ, গাজী ইমাম হোসেন, মো. হুমায়ুন কবির ওরফে হুমায়ুন (পলাতক), খন্দকার আমিরুল ইসলাম ওরফে কাজল। এ ছাড়া মামলার অন্য আসামি মো. হুমাউন কবির ওরফে কবিরের বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় আদালতের বিচারক তাকে খালাস দেন। এদিকে শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হত্যাচেষ্টা মামলার ১২ আসামির মধ্যে একই আসামির (১১ জন) দুটি ধারায় দশ বছর করে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক জাহিদুল কবির। এ মামলাতেও আসামি মো. হুমাউন কবির ওরফে কবিরের বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় আদালতের বিচারক তাকে খালাস দেন। হত্যাচেষ্টার মামলার রায়ে বিচারক উল্লেখ করেছেন দুটি সাজাই পর্যায়ক্রমে খাটতে হবে। একই সঙ্গে সাজার মেয়াদ থেকে হাজতবাসকালীন সময় বাদ যাবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। হত্যাচেষ্টা মামলায় ১১ আসামির প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৬ মাস করে এক বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে বিচারক বলেছেন, পলাতক আসামি খন্দকার আবদুর রশিদ, জাফর আহমেদ ওরফে মানিক ও মো. হুমায়ুন কবির ওরফে হুমায়ুন আদালতে আত্মসমর্পণ কিংবা গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তাদের সাজা কার্যকর হবে। আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধজনক ষড়যন্ত্র, হত্যার প্ররোচনা, অপরাধমূলক কাজে সহযোগিতা এবং হতাচেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের বিচারক এ সাজা দিয়েছেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

    শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলার রায়ে আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা এবং শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একই আসামি ও একই ষড়যন্ত্রকারীদের পৃষ্ঠপোষকতায় শেখ হাসিনাকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। আসামিরা বিভিন্ন সময়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করেছে এবং সেই ষড়যন্ত্রের অংশ থেকেই তারা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করে যা মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে এসেছে।

    মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ১০ই আগস্ট মধ্যরাতে আসামিরা বঙ্গবন্ধুকন্যা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার অবস্থানস্থল ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু ভবন ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর) গুলিবর্ষণ, গ্রেনেড ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নেতৃত্বে গঠিত ফ্রিডম পার্টির নেতা-কর্মীরাই শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে ওই হামলা চালিয়েছিল বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে। ঘটনার পর ১১ই আগস্ট ৩২ নম্বর বাড়ির প্রধান ফটক সংলগ্ন ডিউটি পোস্টে দায়িত্বরত হাবিলদার মো. জহিরুল হক মামলা দায়ের করেন। তদন্তের পর এ ধরনের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি মর্মে পুলিশ ১৯৮৯ সালের ৮ই ডিসেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তবে, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ভবিষ্যতে এ মামলার যদি কোনো সূত্র পাওয়া যায় তবে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে তদন্ত করা হবে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। মামলার তদন্তভার দেয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সিআইডির (সিটি জোন) তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার এএসপি মো. খালেকুজ্জামানকে। তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. খালেকুজ্জামান। অভিযোগপত্রে ফ্রিডম পার্টির নেতা ও বঙ্গবন্ধুর খুনী সৈয়দ ফারুক রহমান, আবদুর রশীদ ও বজলুল হুদাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তবে, সাক্ষীদের হাজির হতে বিলম্বসহ নানা কারণে মামলার বিচারকাজে বিঘ্ন ঘটে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করলে মামলাটি নিশ্চল হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে মামলার নথিপত্র ২০০২ সালের ১১ই মে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ, ১ম আদালতে বদলিমূলে পাঠানো হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় সরকার গঠন করলে ওই বছরের ২৭শে আগস্ট এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। একাধিক বিচারকের হাত ঘুরে ২০১২ সালের ২৯শে মার্চ মামলাটির বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলিমূলে পাঠানো হয়। এই মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ৫ কার্যদিবস রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৬ই অক্টোবর মামলার রায়ের তারিখ (২৯শে অক্টোবর) ধার্য করেন আদালতের বিচারক মো. জাহিদুল কবির। এর আগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি বোমা পুঁতে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার আরেকটি মামলার রায় গত আগস্টে ঘোষিত হয়েছে। ওই রায়ে ১০ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক। এছাড়া ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট সংঘটিত ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা মামলাটি এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তিতর্ক শেষে এ মামলার রায়ের জন্য দিন ধার্য করবেন ওই আদালতের বিচারক।

    তারেক ঘনিষ্ঠরা কোণঠাসা

    ক্ষমতার বাইরে অবস্থান করার এক দশক পূর্তিতে আত্মদহন বেড়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি)। দেশব্যাপী ব্যর্থ আন্দোলন-সহিংসতার দায় কাঁধে নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হচ্ছে দলটিকে। ক্ষমতার সোনালী দিগন্তের হাতছানি স্মৃতিকাতরতা বাড়িয়ে দিয়েছে নেতাদের।

    দলের বিপর্যস্তকর এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি নাজুক অবস্থায় রয়েছেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমানের অনুসারীরা। যারা এক সময় দলে সুপার পাওয়ার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তাদের এ অবস্থার জন্য দায়ী দলে সৃষ্ট দুটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এর মধ্যে একটি নেতানির্ভর, আরেকটি আমলা কেন্দ্রিক সিন্ডিকেট।

    সূত্রমতে, বিএনপি চেয়ারপারসনের একজন বিশেষ সহকারীর নেতৃত্বে সাবেক আমলা নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট। আর অন্যটি গড়ে উঠেছে স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সমন্বয়ে। যাকে বলা হচ্ছে নেতানির্ভর সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, ওই দুই সিন্ডিকেটকে পেছন থেকে শক্তি জোগাচ্ছেন ঢাকার মহানগর বিএনপির একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। বর্তমানে এ সিন্ডিকেটে জড়িয়ে পড়েছেন মধ্যম সারির নেতারাও। যারা সিন্ডিকেটের তল্পিবাহক হয়ে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করে ফেলেছেন। তাদের অপকর্মের খবর এখন কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

    তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, এ দুটি সিন্ডিকেট দলকে বিভক্ত করে ফেলেছে। তাদের হাতেই পরিচালিত হচ্ছে যাবতীয় কার্যক্রম। আর তাদের স্বেচ্ছাচারিতায় সংগঠন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

    অন্যদিকে তারেক সমর্থকরা বলছেন, দুই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণকারীরাই দলের দ্বিতীয় নেতা তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠদের দূরে সরিয়ে রাখছেন। বিশেষ করে যারা তারেক রহমানের সঙ্গে থেকে দিনের পর দিন তৃণমূলকে সংগঠিত করতে কাজ করে গেছেন তারা এখানে উপেক্ষিত।

    এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে উঠে আসা কেন্দ্রীয় এক নেতা। তিনি বলেছেন, ‘দলের জন্য এতকিছু করলাম। বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে থাকলাম। এমনকি দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। অথচ আমি কোনো সিন্ডিকেটের লোক নই বলে দলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে আমাকে কার্যত অবমূল্যায়নই করা হয়েছে।’

    একই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় তারেক রহমানের সঙ্গে থেকে তৃণমূলকে সংগঠিত করতে ভূমিকা রাখা চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পর্যায়ের এক নেতা। তিনিও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বর্তমানে আপনারা যে বিএনপিকে দেখছেন, এটা আগের সেই বিএনপি নয়। মূলত বিএনপি এখন পরিচালিত হচ্ছে খণ্ড খণ্ড সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। এখানে যে যার সুবিধা মতো, নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই সিন্ডিকেটের লোকজন বেশ ভালোই আছেন। কারণ তাদের অর্থ-বিত্তের কোনো অভাব হচ্ছে না। তাই এরাই চায় না, বিএনপি ক্ষমতায় যাক।’

    চেয়ারপারসনের ওই উপদেষ্টা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখে কিছুই হবে না। কেননা, শক্তিশালী এসব সিন্ডিকেট ক্ষমতাসীন সরকারের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ঠিকই নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। আর দলের ১২টা বাজাচ্ছে। সাংগঠনিকভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে দলকে।’

    দলীয় সূত্রমতে, বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর দফায় দফায় দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা তারেক ঘনিষ্ঠদের ভিন্ন বার্তা দিয়েছে। দলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এতো বেশি সংখ্যক সদস্যবিশিষ্ট কমিটি আর দেখেনি কেউ। অথচ এতো বড়ো কমিটিতে তারেক ঘনিষ্ঠ নেতাদের উপেক্ষা করে দলের মূল রাজনীতিতে তাদের কোণঠাসা করে ফেলা হয়েছে।

    এই তালিকায় আছেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্তত তিনজন সদস্য, চারজন ভাইস চেয়ারম্যান ও ছয়জন উপদেষ্টা। এ ছাড়া আগের কমিটির তিনজন যুগ্ম মহাসচিব, চারজন সাংগঠনিক সম্পাদক, দুজন সহসাংগঠনিক সম্পাদক, ১৩ জনের মতো সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং নবম জাতীয় সংসদে দলের এমপি ছিলেন এমন অন্তত ১১ জন এমপি কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

    তারেক রহমানের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ ছিলেন এমন নেতার সংখ্যা অর্ধশতাধিক হবে। এরাই মূলত কেন্দ্রীয় রাজনীতির পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সাংগাঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছেন।

    তারেক ঘনিষ্ঠরা দাবি করছেন, নব্বইয়ের দশকের প্রথম থেকেই তারেক রহমানের কাছাকাছি আসতে শুরু করেন তারা। ২০০১ সালের নির্বাচন সামনে রেখে জেলায় জেলায় দল গোছাতে তারেক রহমানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতারা ছিলেন সৈনিকের ভূমিকায়। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠন করার পর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন তারেক রহমান। এরপর দীর্ঘদিনের এসব পরীক্ষিত নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল বিএনপিকে শক্তিশালী করতে সারা দেশ চষে বেড়ান তারেক।

    অবশেষে ওয়ান ইলেভেনে সময় দীর্ঘ কারাভোগের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তারেক রহমানকে বিদেশে যেতে হয়। এর মধ্যেই নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাছে পরাজিত হয়ে সংসদে বিরোধী দল হয় বিএনপি। এরপর থেকেই দলের ভেতরে ধীরে ধীরে কোণঠাসা হতে থাকেন তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এসব নেতারা। যার সর্বশেষ চিত্র ফুটে ওঠে দলটির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে। দফায় দফায় কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে।

    তবে দলে সিন্ডিকেটের অস্তিত্বকে উড়িয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি বললেন, যারা সিন্ডিকেটের কথা যারা বলছেন, তারা আসলে দলের ভেতরে থাকা সরকারি এজেন্ট।’

    মূলত, ১৯৯১ সালে ‘তরুণ নেতৃত্বের মডেল’ নিয়ে রাজনীতিতে আবির্ভূত হয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। সে বছরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চেয়ারপারসন মা বেগম খালেদা জিয়ার সহচর হিসেবে দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশও নিয়েছিলেন। তবে ২০০১ সালের নির্বাচনে এসে তিনি স্বতন্ত্র প্লাটফরমে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। আর তখন থেকেই সক্রিয় হয়ে ওঠেন দলীয় রাজনীতিতে।

    কিন্তু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে নানা ঘাত-প্রতিঘাত আর বিএনপির উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ একটি দুর্নীতি মামলার আসামি হিসেবে ঢাকা ক্যান্টমেন্টের মইনুল রোডের বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। তার বিরুদ্ধে ১৩টি দুর্নীতির মামলা দায়ের করে বিচারের সম্মুখীন করা হয়। এরপর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের নিয়ে যান তার মা খালেদা জিয়। এরপর থেকে তার আর দেশে ফেরা হয়নি।

    এক সময়ের দল ও সরকারের ‘পাওয়ার হাউজ’ হিসেবে পরিচিত ‘হাওয়া ভবনের’ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনীতিকে মহাপ্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। এরপর বিএনপি মূলত নবীন আর প্রবীণকেন্দ্রিক নেতৃত্বে অদৃশ্যভাবে বিভিক্ত হয়ে পড়ে। যার এক মেরুতে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, আরেক মেরুতে উদীয়মান নেতা তারেক রহমান। দলের ভেতরের সুক্ষ্ম এ বিভক্তি নেতাদের মধ্যে স্নায়ুচাপ বাড়িয়ে দিয়েছিল। দলে হঠাৎ করেই কোনো নবীনের মহাপরাক্রমশালী হয়ে ওঠা ভেতরে ভেতরে মানতে পারছিলেন না প্রবীণরা।

    ওয়ানডে দলে নতুন মুখ মোসাদ্দেক হোসেন

    আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য ২০ জনের পুলে ডাক পেয়েছিলেন চার নতুন মুখ। তাদের মধ্যে চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা হয়েছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে মেহেদী হাসান মিরাজ, আলাউদ্দীন বাবু ও শুভাষিস রায়কে।

    বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এতে ১৩ জনের দলে ডাক পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন।

    এর আগে টি-টোয়েন্টি খেললেও এখনো ওয়ানডে অভিষেক হয়নি বাংলাদেশের এই তরুণ অলরাউন্ডারের।

    ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্স ২০ বছর বয়সি এ ডানহাতি ক্রিকেটারের জন্য ওয়ানডে দলের দ্বার উন্মোচন করেছে। আবাহনীর হয়ে ১৪ ইনিংসে ৬২২ রান করেছেন মোসাদ্দেক। দলকে এক হাতে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন যুব ক্রিকেটার। শুধু ব্যাটিংয়ে না বোলিংয়েও পেয়েছেন ১৫ উইকেট।

    প্রিমিয়ার লিগই নয় জাতীয় ক্রিকেট লিগ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করায় মোসাদ্দেককে বেছে নিয়েছেন নির্বাচকরা।

    আলী, এম ওসমান

    আলী, এম ওসমান (১৯০০-১৯৭১) রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, সমাজসেবক। জন্ম ১৯০০ সালের ১ জানুয়ারি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার জামালকান্দি গ্রামে। পিতা হাজী ডেঙ্গু প্রধান। ওসমান আলী নিজ গ্রামের স্কুলেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ১৯২০ সালে প্রবেশিকা পাস করেন। অতঃপর তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন।

    এম ওসমান আলী
    ছাত্রজীবনেই ওসমান আলী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তিনি কলেজ বয়কট করে ১৯২০ সালে খেলাফত আন্দোলন এবং পরে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। এ সময় তিনি অসহযোগ আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতাদের সংস্পর্শে আসেন। ওসমান আলী অসহযোগ আন্দোলনচলাকালে নারায়ণগঞ্জে এসে রাজনীতির পাশাপাশি পাট ব্যবসা শুরু করেন। এ সময়ে তিনি কম্যুনিস্ট নেতা বেণুধর, বিপ্লবী নেতা অনিল মুখার্জী ও জ্ঞানচক্রবর্তীর সংস্পর্শে আসেন।

    উনিশ শতকের ত্রিশের দশকে নারায়ণগঞ্জের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে হিন্দু ও মাড়োয়ারীদের প্রাধান্য ছিল। নারায়ণগঞ্জে এ সময় অনেক এজেন্সি ও ব্রোকার হাউস গড়ে ওঠে। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই ছিল ইউরোপীয় ও পশ্চিম ভারত থেকে আগত মাড়োয়ারী সম্প্রদায়ের। ব্যবসাক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমানদের দৈন্যদশা লক্ষ করে ওসমান আলী নিজে ব্রোকার হাউজ খুলে পাট ব্যবসায়ে আত্মনিয়োগ করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর ব্যবসার প্রসার ঘটে।

    লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তান আন্দোলন শুরু হলে ওসমান আলী নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনকে সংগঠিত করেন এবং বামপন্থী ও অন্যান্য স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় সেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার চেষ্টা করেন।

    এম ওসমান আলী ১৯৪৬ সালে সাধারণ নির্বাচনে (নারায়ণগঞ্জ দক্ষিণ নির্বাচনী এলাকা) ঢাকার নবাব খাজা হাবিবুল্লাহকে পরাজিত করে বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ শহর মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট এবং ঢাকা জেলা মুসলিম লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ১৯৪২ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ শহর মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৬ সালে নারায়ণগঞ্জে ‘ঝুলন যাত্রা’ উপলক্ষে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সমঝোতা আনয়নে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকা জেলা মুসলিম লীগে ঢাকার নবাবদের সঙ্গে প্রগতিশীল গ্রুপের মতবিরোধ দেখা দেয়। এ বিরোধে ওসমান আলী প্রগতিশীল গ্রুপকে সমর্থন করেন এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে নারায়ণগঞ্জে গণসংবর্ধনা দেন। এম ওসমান আলী ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। এ জন্য তিনি কারারুদ্ধ হন। ১৯৬২ সালের শাসনতান্ত্রিক আন্দোলন, ছয়দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ওসমান আলী সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

    এম ওসমান আলী সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তাঁর সম্পাদনায় ত্রিশের দশকে নারায়ণগঞ্জ থেকে সবুজ বাঙলা নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকায় লিখতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মোহিতলাল মজুমদার, জসীমউদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ, অধ্যাপক মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন, বন্দে আলী মিয়া, কাজী আবদুল ওদুদ, মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা প্রমুখ।

    এম ওসমান আলী ১৯৩৮ সালে নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন ওসমানিয়া হাইস্কুল, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের তানজিম মুসাফিরখানা, রহমতুল্লাহ অডিটোরিয়াম ও গণপাঠাগার নির্মাণে তাঁর অবদান ছিল। এসব জনহিতকর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ১৯৪০ সালে ‘খান সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করে। কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের দমননীতির প্রতিবাদে তিনি ১৯৪৪ সালে এ উপাধি বর্জন করেন।

    ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ তাঁর মৃত্যু হয়।

    জিয়ার পদক প্রত্যাহারের নিন্দায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি

    জাতীয় জাদুঘর থেকে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক সরিয়ে ফেলায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। বুধবার সংগঠনের এক বিবৃতিতে ‘গণতান্ত্রিক চর্চা সুসংহত রাখার স্বার্থে’ জিয়ার পদক জাদুঘরে পুনঃস্থাপনের দাবি জানানো হয়।

    ২০০৩ সালে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়।

    শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেওয়া রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ওই সিদ্ধান্তের আলোকে বুধবার জিয়ার পদকটি জাদুঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    ঘটনাটিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রকাশ’ আখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত ও ইতিহাসে অলঙ্ঘনীয় কোনো কিছুর বিপরীতে কারোরই যাওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অবদান ‘ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত’ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

    “কোনোভাবেই এ অবদানকে বিবেকসম্পন্ন মানুষের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা সম্ভব হবে না।”

    যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা আকতার হোসেন বাদল, অলিউল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, সাঈদুর রহমান সাঈদ, জসীম উদ্দিন, যুবদল সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী ও সেক্রেটারি আবু সাঈদ আহমদ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।

    প্রবাসী সহ দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেলোয়ার হোসেন আহাদ

    নিজস্ব প্রতিনিধি:পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সকল প্রবাসী সহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মৌলবীবাজার এইড ইউকে এর সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন আহাদ । সকলের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি।

    শনিবার এক শুভেচ্ছা বার্তায় মৌলবীবাজার এইড ইউকে এর সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন আহাদ বলেন- আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে ব্রতী হওয়াই কোরবানীর মর্মবানী।

    কোরবানীর সে শিক্ষাকে বুকে ধারণ করে মানব কল্যানে নিজেকে উৎসর্গ করা আমাদের কর্তব্য। আর্তমানবতার সার্বিক উন্নয়নে এগিয়ে এসে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সোহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় আমাদেরকে সচেষ্ট হতে হবে।

    পবিত্র ঈদুল আযহা সকলের জীবনকে করে তুলুক আনন্দময় এই শুভ কামনা জানাই।

    Print Friendly

    রাশিয়ায় যাত্রীবাহী বিমান দুর্ঘটনা : সবাই নিহত

    রাশিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বিমান দুর্ঘটনায় ৬১ জন নিহত হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, বিমানটি অবতরণের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ফ্লাইদুবাই এয়ারলাইনের বিমানটির ৫৫ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রুর সবাই নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি দুবাই থেকে যাত্রা করেছিলো। খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমানটি অবতরণের আগে প্রায় দুঘণ্টা সময় ধরে বিমানবন্দরের উপরে আকাশে ঘুরছিল বলে জানা যাচ্ছে। বেশ ভারি বাতাস ছিলো অবতরণের সময়। বিমানটি বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে ভেঙে কয়েক টুকরো হয়ে যায় এবং তাতে আগুন ধরে যায়। উদ্ধার কর্মীরা সেখানে কাজ করছেন। দেশটির দক্ষিণের শহর রস্তভ অন দন শহরে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। নিহতের বেশিরভাগ রাশিয়ার নাগরিক।

    ক্যানসারের টিকা আবিষ্কার?

    ক্যানসারের জীবাণু ধ্বংস করার টিকা আবিষ্কারের দাবি করেছেন একদল ব্রিটিশ বিজ্ঞানী। তবে টিকাটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়েই রয়েছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই টিকা শরীরের যেকোনো জায়গায় ছড়িয়ে থাকা ক্যানসারের জীবাণু ধ্বংস করতে পারবে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্টে এই খবর প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞানীরা জানান, হিউম্যান টেলোমারেজ রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ (এইচটিইআরটি) নামের এক ধরনের এনজাইম ক্যানসার কোষের ক্রমাগত বংশ বাড়াতে কাজ করে। এই এনজাইমের গঠনমূলক প্রোটিনের কিছু অংশ নতুন টিকাতে রাখা হয়েছে। এই জিনিস ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে শরীরের রক্তে প্রবেশ করালে এটি ভালো কোষগুলোকে ঠিক রাখবে এবং ক্ষতিকর কোষগুলো ধ্বংস করতে সাহায্য করবে। ৩৫ বছরের জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত একজন ব্রিটিশ নারী কেলি পটারকে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে এই টিকা দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে টিকাটি ৩০ জনের শরীরে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। টিকাটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে কাজ করবে।

    লন্ডনের বেকহাম এলাকার বাসিন্দা কেলি যখন জরায়ুমুখের ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন, তখন শরীরের অন্যান্য অংশেও ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে টিকাটি দেওয়ার পর ক্যানসার স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘এর কারণে আগের থেকে অনেক ভালো আছি আমি। এটি খুব ইতিবাচক ও আনন্দের অনুভূতি আমার জন্য। এর সাথে যোগ হতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি।’ গাই’স ও সেন্ট থমাস বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের গবেষক এবং এই গবেষণার প্রধান জেমস স্পাইসার বলেন, তবে ক্যানসার নিরাময় করার জন্য এই টিকার পাশাপাশি কম মাত্রার কেমোথেরাপি ওষুধ দিতে হবে।

    দেশে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোন দল নেই : এলজিআরডি মন্ত্রী

    এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দেশে বর্তমানে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোন দল নেই। বিএনপি জামায়াত অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন আমরা রাজনীতি করবো কার সাথে? এখনতো দেখছি আওয়ামী লীগের সাথে আওয়ামী লীগেরই রাজনীতি করতে মাঠে নামতে হবে।

    শনিবার বিকেলে শহরের ঝিলটুলী চৌরঙ্গির মোড়ে নবনির্মিত ফরিদপুর কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এলজিআরডি মন্ত্রী একথা বলেন।
    এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, বাঙালী জাতি সত্ত্বার উম্মেষ ঘটেছে ৫২’র ভাষা আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনারকে কেন্দ্র করে। শহীদ মিনার আমাদের বাঙালী জাতি সত্ত্বার ঠিকানা। যারা শহীদ মিনার চায় না তারা কখনো বাঙালী হতে পারে না। দেশের প্রতিটি স্কুলে শহীদ মিনার নির্মানের ঘোষনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাষা বিশ্বাস করে না এমন কোন বাঙালী পৃথিবীতে নেই।
    ১৪ ফেব্র“য়ারী বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে মন্ত্রী তার বদরপুরেস্থ বাসভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় সকলকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, এই ভালোবাসা দিবস শুধু যুবক-যুবতীর ভালোবাসা না। আমরা সবাই যাতে সবাইকে ভালোবাসতে পারি সেই চেষ্টা করতে হবে। এবারের ভালোবাসা দিবসের প্রতিপাদ্য হোক ‘ফরিদপুর আমার ভালোবাসা’। আমরা যতো নিজের জেলা ফরিদপুরকে ভালোবাসবো ততোই পুরিদপুর উন্নয়ন হবে।
    ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার জামিল হাসান, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর প্রমুখ।