• ?????: যুক্তরাষ্ট্র

    ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে না যুক্তরাজ্যে ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় এর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে।

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন তিনি। তার মতে, এর মাধ্যমে শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হলো। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, তারা এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবেন না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান কূটনীতিক ফেডেরিকা মোগেরিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী মিত্র দেশগুলো ট্রাম্পের ঘোষণার কঠোর সমালোচনা করে তার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করার কথা জানিয়েছে। বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা দেওয়ার আগেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতা ও অশান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা ব্যক্ত করলেও কারো কথা রাখেননি তিনি।

    সবার আপত্তি সত্ত্বেও জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দেশটির বর্তমান রাজধানী তেল আবিব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ঘনিষ্ট মিত্র সৌদি আরব ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলেছে। সৌদি আরব বলেছে, এই ঘোষণা অযৌক্তিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য বলেছে, তারা এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করবে না।

    বিশ্বজুড়ে কড়া সমালোচনা ও বিরোধিতার মধ্যেই ট্রাম্পের ঘোষণা দেওয়ার দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক দিন’ বলে অভিহিত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

    যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের পররাষ্ট্রনীতি উল্টে দিয়ে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন ট্রাম্প। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে জেরুজালেমের অধিকারস্বত্ব সবচেয়ে কাঁটাময় ইস্যুগুলোর অন্যতম। ট্রাম্পের এ ঘোষণাকে ‘শোচনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

    ট্রাম্পের স্বীকৃতির পর পশ্চিম তীর ও গাজার ফিলিস্তিনিরা টানা অবরোধ ও বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ আহ্বান করেছে। অবশ্য বুধবার থেকেই ফিলিস্তিনিরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা পুড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে আটটি দেশ জেরুজালেম ইস্যুতে আলোচনার জন্য শুক্রবার জরুরি সভা ডেকেছে। এ নিয়ে শনিবার বৈঠক করবে আরব লিগ।

    ট্রাম্প কী বললেন?
    মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুধবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের শান্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিচার করে তিনি এ কাজ করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।

    এ ধরনের পদক্ষেপে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা ও হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করা হলেও ট্রাম্প তার সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন এবং ডানপন্থি শিবিরে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমি ঘোষণা করছি।’

    জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়া আর ‘বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেয়ে কম বা বেশি কিছু নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটি করাই সঠিক।’

    ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিরা যদি অনুমোদন করে তাহলে দীর্ঘদিনের সংঘাত অবসানে ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক’ সমাধানকে সমর্থন করবে যুক্তরাষ্ট্র। দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মূল কথা হলো- ইসরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের জন্যও একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হবে।

    ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলে কী বলছে?
    জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ার পরপরই দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ট্রাম্পের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এক টুইটে তিনি বলেন, ‘তিন হাজার বছর ধরে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে জেরুজালেম।’

    মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নথির সূত্র দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার পক্ষে ইসরায়েলকে গরম গরম প্রতিক্রিয়া জানাতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, এ ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চাপ বাড়তে পারে।

    মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, জেরুজালেম তাদের ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী। ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘শোচনীয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর কোনোভাবেই শান্তির সাফাইকারী রইল না। এ ছাড়া গাজা উপত্যকা শাসনকারী হামাস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ট্রাম্পের এই ঘোষণা ‘জাহান্নামের শতদরজা খুলে দিয়েছে’।

    বাকি বিশ্ব কী বলছে?
    যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রসহ আরব ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্ব ট্রাম্পের এই ঘোষণার চরম নিন্দা জানিয়েছে। এরই মধ্যে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে।

    সৌদি আরবের রয়্যাল কোর্ট বলেছেন, ‘শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ বড় ধরনের বিপর্যয় এবং জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থানের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’

    ‘আমরা সবাই এর বিরোধিতা করছি, তা পরিষ্কার করতে’ বিশ্বের মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘গভীর উৎকণ্ঠার মুহূর্ত’ এটি।

    পুতিনেই বিশ্বাস ট্রাম্পের

    ভ্লাদিমির পুতিনে বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন দাবি করেন, ২০১৬ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি বা তার দেশ হস্তক্ষেপ করেন নি। তার এ কথায় বিশ্বাস করেন ট্রাম্প। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালক বলছেন ভিন্ন কথা। তারা তাদের আগের কথায় অটল রয়েছেন। সিআইএ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে জানুয়ারিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যে রিপোর্ট দিয়েছিল তারা সেই অবস্থানেই আছে।
    ওই রিপোর্টে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা বলেছিল, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল। সিআইএ পরিচালক মাইক পোম্পেও বলেছেন, তিনি তার রিপোর্টে অটল আছেন। শনিবার ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অবস্থিত ডা নাং থেকে বিমানে উড়াল দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি জানিয়ে দেন, ডা নাংয়ে পুতিনের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। পুতিন জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে নি। ট্রাম্প তার এ কথাই বিশ্বাস করেন। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সিআইএ’র প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে তারা একটি বিবৃতি দেয়। তাতে বলা হয়, ‘এসেসিং রাশিয়ান অ্যাক্টিভিটিজ অ্যান্ড ইনটেনশনস ইন রিসেন্ট ইউএস ইলেকশনস’ শীর্ষক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে যে রিপোর্ট দিয়েছিল তার পক্ষেই আছেন সিআইএ পরিচালক এবং তিনি এর পক্ষে থাকবেন সব সময়। নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যে কোনো পরিবর্তন হয় নি’। এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে সিআইএ। উল্লেখ্য, হ্যানয়ের বৈঠক শেষে এয়ারফোর্স ওয়ানে আরোহণ করেছেন তখন ট্রাম্প। তিনি এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাতে ইঙ্গিত দেন, পুতিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের কথা অস্বীকার করেন এবং তার প্রতি আস্থা রয়েছে তার। ওদিকে সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা যেমন জেমস কমি, জন ব্রেনান, জেমস ক্লাপারের মতো উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা বলেছেন, পুতিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছেন। উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ইস্যুতে নাজুক অবস্থানে আছেন ট্রাম্প। একে একে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে জেলে পাঠানো হয়েছে তার সাবেক নির্বাচনী ম্যানেজার পল ম্যানাফোর্ট ও তার এক ব্যবসায়ী সহযোগীকে। শোনা যাচ্ছে, রাশিয়া কানেকশন নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলারের হাতে রয়েছে ‘শক্তিশালী বোমা’। তার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে সামনের দিনগুলোতে। তাতে কাত হয়ে পড়তে পারেন সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন, তার ছেলে বব ফ্লিন এমন কি ইঙ্গিত মিলছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ গঠন করা হতে পারে। যদি এমনটাই হয় তাহলে হোয়াইট হাউসে ঝড় বয়ে যেতে পারে। সে ঝড়ে এলোমেলো হয়ে যেতে পারে অনেক কিছু। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পকে মসনদও হারাতে হতে পারে। এই যখন অবস্থা তখন হ্যানয়ের ডা নাংয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে পুতিনের। এ বিষয়ে তিনি এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, আমাকে একটু বিরতি দিন। তারা হলো রাজনৈতিক হ্যাকার। আপনারা তাদের দিকে তাকান, আমি বলতে চাইছি, আপনাদের সামনে আছেন ব্রেনান, ক্লাপার, কমি। এখন তো প্রমাণ হয়ে গেছে যে, (জেমস) কমি একজন মিথ্যাবাদী। তিনি তথ্য ফাঁসকারী এটাও প্রমাণিত। এসব বিষয়ে নজর দিন। আর আপনাদের সামনে আছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। তিনি খুব জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি কিছুই করেন নি। এ বিষয়ে পুতিন বলেছেন, তিনি (নির্বাচনে) হস্তক্ষেপ করেন নি। হস্তক্ষেপ করেন নি। আমি তাকে আবারো এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। আপনারাও অসংখ্যবার জিজ্ঞাসা করতে পারেন। উল্লেখ্য, ডা নাংয়ের সম্মেলনের ফাঁকে তিন দফা পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় ট্রাম্পের। তাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠে আসে। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, প্রতি বারই তিনি আমার দিকে তাকিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি এটা করি নি। ট্রাম্প বলেন, আমি তার এ কথা বিশ্বাস করি। বাস্তবেই বিশ্বাস করি। আমি মনে করি তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে তাকে অবমাননা করা হয়। এমন একজন নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে এসব কথা বলা হয়।

    টেক্সাসে চার্চে বন্দুক হামলা, নিহত ২৬

    যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক চার্চে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছে। রোববার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় উইলসন কাউন্টির সাদারল্যান্ড স্প্রিং শহরের ফাস্ট ব্যাপ্টিস্ট চার্চে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তিনি এ ঘটনাকে টেক্সাসের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য হত্যাকাণ্ড বলে বর্ণনা করেছেন।

    হামলাকারীর নাম ডেভিন প্যাট্রিক ক্যালি। ২৬ বছরের এই শ্বেতাঙ্গ মার্কিন বিমান বাহিনীর সদস্য ছিল। হামলার পর গুলিতে নিহত হয়েছে সে।

    টেক্সাসের পাবলিক সেফটি বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ফ্রিম্যান মার্টিন জানিয়েছেন, ক্যালি চার্চের ভেতরে প্রবেশ করে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। গুলিবর্ষণ শেষে বের হয়ে ক্যালি বের এলে স্থানীয় এক অধিবাসী তাকে আটকানোর চেষ্টা করে। এসময় ক্যালি রাইফেল ফেলে পালিয়ে যায়। ওই ব্যক্তি পলায়নরত ক্যালির পিছু ধাওয়া করেন। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও ক্যালির পিছু ধাওয়া করে। পার্শ্ববর্তী গুয়াদেলুপে কাউন্টিতে দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ক্যালির মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ নিশ্চিত নয়, হামলাকারী আত্মহত্যা করেছেন নাকি স্থানীয় ওই ব্যক্তির গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে।

    ফ্রিম্যান জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে পাঁচ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৭২ বছরের বৃদ্ধও রয়েছেন। আহত ২০ ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    এশিয়া সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক শোকবার্তায় এ ঘটনাকে ‘শয়তানের কাজ’ ও ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    টেক্সাসে গির্জায় বন্দুকধারীর গুলি, নিহত ২৬

    যুক্তরাষ্ট্রের একটি গির্জায় বন্দকধারীর গুলিতে ২৬ জন নিহত হয়েছে। টেক্সাস রাজ্যের উইলসন কাউন্টির সাদারল্যান্ড স্প্রিং শহরের ফার্স্ট ব্যাপ্টিস্ট চার্চে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
    ঘটনার পরপরই উইলসন কাউন্টি কমিশনার আলবার্ঠ গামেয জুনিয়র প্রথমে ২৭ জনের নিহত হওয়ার খবর সিবিএস নিউজকে জানিয়েছিলেন। তারপর ২০ জন নিহত হওয়ার খবর জানায় পুলিশ।
    তবে সর্বশেষ টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট সংবাদ সম্মেলনে ২৬ জনের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে বলেছেন, ওই অঙ্গরাজের‍্য ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা এটি।
    এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো প্রায় ২৫ জন।

    ঘটনার পরপরই হামলাকারীও নিহত হয়েছে, তবে পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে নাকি সে আত্মঘাতী হয়েছে তা নিশ্চিত নয়।
    স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে সন্দেহভাজন হামলাকারী চার্চে ঢুকে গুলি ছুড়তে শুরু করে । সে বছর কুড়ি বয়সের একজন শ্বেতাঙ্গ তরুণএবং তার পরনে কালো রং-এর পোশাক ছিল। এমই বর্ণনা দেন টেক্সাসের পাবলিক সেফটি ডিপার্টমেন্ট-এর মুখপাত্র।।
    হামলাকারী গুলিবর্ষণ শুরু করলে তার হাত থেকে একজন স্থানীয় ব্যক্তি রাইফেল কেড়ে নেয় এবং তার দিকে গুলি ছোড়ে। এরপর বন্দুকধারী একটি গাড়িতে চড়ে পালিয়ে যেতে উদ্যত হয়
    পুলিশ তাকে গাড়ির ভেতর মৃত অবস্থায় পায়।
    এফবিআইর কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত হামলাকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানা যায়নি।
    ক্যারি মাতুলা নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী এনবিসি নিউজকে বলেন, “আমরা সেমি-অটোমেটিক বন্দুকের গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছি। আমরা চার্চটি থেকে ৫০ গজ দূরে ছিলাম”।

    হামলার ঘটনার পরপরই এশিয়া সফররত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটারে লিখেছেন, এফবিআই এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে রয়েছে। তিনি জাপান থেকে পরিস্থিতির খবরাখবর রাখছেন ।

    উ. কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধলে চিত্র কেমন হবে?

    এই মুহূর্তে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হলে কী করতে হবে এবং এর ফলাফল কী হবে- সে সম্পর্কে হিসাব-নিকাষ করে এক চিঠিতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের আভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগন।

    পেন্টাগন মনে করে, সন্দেহাতীতভাবে উত্তর কোরিয়ার সব পরমাণু অস্ত্রক্ষেত্রের অবস্থান নির্ণয় ও সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সে দেশে স্থলবাহিনীর মাধ্যমে আগ্রাসন চালাতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। তবে যুদ্ধ শুরু হলে উত্তর কোরিয়া জৈবিক ও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।

    চিঠিতে পেন্টাগন মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছে, যুদ্ধ বাঁধলে উত্তর কোরিয়া তাদেরকে পরমাণু অস্ত্র দিয়ে যে ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে এবং তাদের ভূগর্ভস্থ পরমাণু স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রের কী ধরনের সক্ষমতা আছে, তা খোলামেলা আলোচনার বিষয় নয়। এর জন্য আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে গোপনে বিস্তারিত আলোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছে পেন্টাগন।

    কোরীয় উপদ্বীপে যুদ্ধ শুরু হলে পিয়ংইয়ং বায়োলজিক্যাল (জৈবিক) অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। তারা আরো জানিয়েছেন, রাসায়নিক অস্ত্র তৈরিতে উত্তর কোরিয়ার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা নার্ভ, ব্লিস্টার, ব্লাড ও চকিং এজেন্ট উৎপাদন করে থাকে।

    কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের দুই আইনপ্রণেতা পেন্টাগনের কাছে জানতে চান, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধলে বেসামরিক লোকজন, যুক্তরাষ্ট্র এবং এর মিত্র শক্তি দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও গুয়ামে সামরিক বাহিনীতে ‘সম্ভাব্য কী পরিমাণ প্রাণহানি হতে পারে।’ তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পেন্টাগনের উপপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মাইকেল জে ডুমন্ড এক চিঠিতে সম্ভাব্য যুদ্ধের চিত্র কেমন হবে, তা জানিয়েছেন।

    সম্ভাব্য যুদ্ধের বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়ে পেন্টাগনে পাঠানো চিঠিতে ক্যালিফোর্নিয়া ও আরিজোনার দুই ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা যথাক্রমে টেড লিউ ও রুবেন গ্যালিগো বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে দেখছি, অন্য কোনো দেশে হামলা বা আগ্রাসন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পরে তা নিয়ে আমাদের সেনা, করদাতা এমনকি এ অঞ্চলেও মতানৈক্য সৃষ্টি হয়।’ তারা আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র বাহিনীতে কী পরিমাণ হতাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কী পরিমাণ বেসামরিক লোকজন যুদ্ধের শিকার হতে পারে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার বহাল থাকবে কিনা ও হামলার পর ‍কী হবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা সম্পর্কে আমরা এখনো বিস্তারিত কিছু শুনতে পারিনি।’

    টেড লিউ ও রুবেন গ্যালিগোর আশঙ্কার বিষয়ে মাইকেল জে ডুমন্ড শেষ টেনেছেন এভাবে- ‘যুদ্ধে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হবে, তার চিত্র দেখানো দুরুহ।’ তবে তা নির্ভর করছে উত্তর কোরিয়ার হামলার ‘ধরন, তীব্রতা ও যুদ্ধের ব্যাপ্তির ওপর’। দক্ষিণ কোরিয়ার আশ্রয়শিবিরে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের ঠাঁই দেওয়া এবং উত্তর কোরিয়ার হামলা থেকে তাদের বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া কতটা সক্ষম হবে, তার ওপর যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির পরিমাণ নির্ভর করছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে ঘনবসিতপূর্ণ ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ রয়েছে।

    এমন সময় পেন্টাগন থেকে চিঠির জবাব দেওয়া হলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এশিয়া সফরে রয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার হামলার হুমকিতে উদ্বিগ্ন জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সফর করবেন তিনি। উত্তর কোরিয়াকে থামাতে চীন ও রাশিয়ার জোড়ালো সমর্থন চান ট্রাম্প।

    যুক্তরাষ্ট্রে ভিড়ের মধ্যে গাড়ি উঠিয়ে দিয়ে ৮ জনকে হত্যা, আহত অন্তত ১২জন

    রিটেইলার হোম ডিপো থেকে সাদা রঙের একটি ট্রাক যাত্রা শুরু করে স্থানীয় সময় বেলা তিনটার দিকে। নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে সাইকেল চালানোর রুটে ট্রাক তুলে দিয়ে ৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এসময়ে আহত হয়েছে কমপক্ষে ১২জন। ২৯ বছর বয়সী একজনকে ঐ ট্রাক থেকে পালিয়ে যাবার সময় পুলিশ গুলি করে তাকে আটক করে।

    যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম বলছে লোয়ার ম্যানহাটনে এই হামলাকারীর নাম সাইফুল্লো সাইপোভ, যে কিনা ২০১০ সালে অভিবাসী হিসেবে দেশটিতে এসেছে। নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগের কমিশনার জেমস ও’নিল বলেন যে, রিটেইলার হোম ডিপো থেকে সাদা রঙের একটি ট্রাক যাত্রা শুরু করে স্থানীয় সময় বেলা তিনটার দিকে। হামলাকারী এরপর সাইকেল চালানোর রাস্তায় পথচারীদের ওপর সেই ট্রাকটি চালিয়ে দেয় এবং বেশ কিছুদূর অতিক্রম করে। পরে একটি স্কুল বাসের সাথে গিয়ে সংঘর্ষের পর তা থেমে যায়। এরপর পালিয়ে যাবার সময় পুলিশ তাকে পেটে গুলি করে আহত করে ও আটক করে।

    পুলিশ কমিশনারের তথ্য অনুযায়ী তার হাতে দুটি বন্দুক ছিল এবং হামলাকারীর দেয়া ভাষ্য সন্ত্রাসী হামলার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ঘটনাস্থল থেকে দুটি খেলনা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা অনেকেই সেসময় গুলির শব্দ শুনেছে বলে জানা গেছে। নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও একে কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে অভিমত জানিয়েছেন।

    মিস্টার ব্লাসিও এখানে বলছেন, “এটি একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। আরো পরিষ্কার করে বললে, খুবই কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ। আমরা জানি এটি আমাদের শক্তিকে নষ্ট করার চেষ্টা। কিন্তু নিউইয়র্কবাসীরা খুবই শক্তিশালী, ধৈর্যশীল এবং আমাদের অগ্রযাত্রা কখনোই এরকম সন্ত্রাসের কাছে থেমে যাবেনা।”

    এই ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুটি টুইট বার্তা পাঠিয়েছেন। একটিতে তিনি বলেছেন যে, নিউইয়র্কের হামলা দেখে মনে হচ্ছে খুবই অসুস্থ বিপদজনক কেউ এটি চালিয়েছে।

    অপর টুইটে মিস্টার ট্রাম্প বলেছেন যে, আমরা কোনো আইএস গোষ্ঠীর কাউকে মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো স্থান থেকে হারিয়ে দেবার পর এখানে অবশ্যই প্রবেশ করতে দেবো না। এই হামলাটি এমন একটি সময়ে চালানো হয় যখন নিউইয়র্কবাসী তাদের অন্যতম উৎসব হ্যালোইনে মেতে ছিল।

    যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে আরো কড়াকড়ি আরোপের নির্দেশ ট্রাম্পের

    নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটানে পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের ওপর ট্রাক উঠিয়ে দিয়ে আট জনকে হত্যা করার পর বহির্বিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে আরো কড়াকড়ি আরোপ করতে নির্দেশ দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    ২০০১ সালে টুইন টাওয়ারের পর মঙ্গলবারের এই হামলাকে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। উজবেকিস্তান থেকে সাত বছর আগে আসা এক ব্যক্তি পিক-আপ ট্রাক নিয়ে এ হামলা চালিয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হামলার পর নিউ ইয়র্কবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    এক টুইটে ট্রাম্প বলেছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া আরো কড়া করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    অধিকতর নিরাপত্তার স্বার্থে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানের যাত্রীদের বিমানবন্দরে আলাদা আলাদাভাবে সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরই মধ্যে তা শুরু হয়েছে। এ ব্যবস্থা আরো কঠিন করতে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় বসার পর কয়েকটি মুসলিমসংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং ১২০ দিনের জন্য শরণার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করেন। কিন্তু আইনি বাধার মুখে বলতে গেলে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তবে ১২০ দিন শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন আবার ঘোষণা দিয়েছে, এখন থেকে তারা শরণার্থী গ্রহণ করবে। তবে এবার নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ১১টি দেশের জনগণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    পূর্ব এশিয়া সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প; যাবেন মিয়ানমারেও

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ সফর করবেন। এসময় তিনি মিয়ানমারও সফর করতে পারেন। ট্রাম্প এমন সময় পূর্ব এশিয়া সফর করছেন যখন মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চালাচ্ছে।খবর পার্সটুডের।

    পূর্ব এশিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ১১ দিনের এই সফর আগামী ৩ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় তিনি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, ভিয়েতনাম এবং ফিলিপিন্স সফর করবেন।

    রাখাইনে সেনা অভিযানের ঘটনায় লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রাখাইনে সহিংসতার নিন্দা জানায়। তবে শুরু থেকে খুব একটা প্রতিক্রিয়া দেখায়নি ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও পরে তারা মিয়ানমারের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

    এর আগে গেলো ১৮ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন রাখাইনে হামলার জন্য দেশটির সেনাবাহিনীকে দায়ী করেন। পরের সপ্তাহেই (২৬ অক্টোবর) মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনে উদ্বেগ জানিয়ে দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং লাইংকে টেলিফোন করেন টিলারসন। তবে রাখাইনে যা ঘটছে সেটিকে জাতিগত নিধন বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    এদিকে জাতিসংঘ বলছে রাখাইনে জাতিগত নিধন চলছে। আর রাখাইনের ঘটনা নিয়ে সংস্থাটি তিন সদস্যের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিও গঠন করেছে। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি গেলো মাসে জানায়, রাখাইন থেকে ছয় লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
    গেলো ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে সেখানে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়। এ ঘটনায় নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

    উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার হুমকির জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত। রোববার সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন।

    গত মাসে উত্তর কোরিয়া ষষ্ঠবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ নিয়ে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার হুমকি দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পাল্টা হুমকি ‍দিয়েছেন।

    ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,‘আমরা এতোটাই প্রস্তুত যে আপনি তা বিশ্বাস করবেন না।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের যদি প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে আমরা কতোটা প্রস্তুত তা দেখলে আপনি রীতিমতো বিস্মিত হবেন।’

    উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংঘাতের কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা কে বলতে পারে?’

    উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া সাক্ষাৎকারে। জবাবে ট্রাম্প পিয়ংইয়ংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে বেইজিং ওয়াশিংটনকে সাহায্য করেছে বলে প্রশংসা করেন।

    চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তিনি হচ্ছেন চীনের জন্য আর আমি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। আমাদের মধ্যে বেশ ভালো সম্পর্ক রয়েছে-আমি একে ব্যতিক্রমী সম্পর্কই বলব। চীন সত্যিকারার্থে আমাকে সাহায্য করেছে।’

    ব্রাজিলে পীতজ্বরে মৃত্যু ৩০, আক্রান্ত ১১০

    মিনাস গেরাইস, ১৩ জানুয়ারি- ব্রাজিলের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের মিনাস গেরাইস প্রদেশে গত এক সপ্তাহে ভাইরাসজনিত পীতজ্বরে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই জ্বরে সম্ভাব্য আক্রান্তের সংখ্যা ১১০-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। শুক্রবার চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়। প্রদেশটির স্বাস্থ্য সচিবালয় জানায়, মারা যাওয়া ৩০ জনের ১০ জনের মৃত্যু পীতজ্বরে হয়েছে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকিদের মধ্যেও ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গত এক সপ্তাহে এই জ্বরের প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮ থেকে ১১০ জনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। পীতজ্বর প্রধানত ভাইরাস আক্রান্ত নারী মশার কামড়ের মাধ্যমে মানবদেহে ছড়ায়। এতে তীব্র জ্বর হয়। সময় মতো যথাযথ চিকিৎসা না হলে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। বানরের মধ্যে সাধারণত পীতজ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।