• ?????: ইউরোপ

    যুক্তরাষ্ট্রে ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষিকার সমকামিতা

    শ্রেণিকক্ষেই মাত্র ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রীর সঙ্গে সমকামী সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন শিক্ষিকা জ্যাকলিন ট্রুম্যান (৩০)। একবার দু’বার নয় ৫ থেকে ১০ বার এমন সম্পর্ক স্থাপন করেন ওই ছাত্রীর সঙ্গে। এ খবর ফাঁস হওয়ার পর পদত্যাগ করেছেন শিক্ষিকা জ্যাকলিন। তিনি ধরা দিয়েছেন পুলিশে। ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। সেখানে ওভিয়েডোতে হগার্টি হাই স্কুলের ক্লাসরুমে অন্য ছাত্রীরা চলে যাওয়ার পর তার শিকারে পরিণত হয়েছিল ওই ছাত্রী।

    তাকে আস্তে আস্তে যৌনতায় উত্তেজিত করে তুলতেন তিনি। গত বছর তাদের মাঝে দু’মাস স্থায়ী হয়েছিল এ সম্পর্ক। ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর সেখানে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ওই ছাত্রী অবশ্য তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছে শিক্ষিকা জ্যাকলিনের সঙ্গে উভয়ের সম্মতিতে এ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। সেমিনোলে কাউন্টি শেরিফ অফিসের মুখপাত্র বব কিলিং বলেছেন, যে স্কুলে একজন ছাত্রী, একজন ছাত্র সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা সেখানেই ঘটেছে এই ঘটনা। ভয়াবহভাবে মানবিকতা লঙ্ঘন করা হয়েছে। এটা অস্বাভাবিক এক ঘটনা। তাই আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। আমাদের উদ্বেগ এ জন্য যে, এ ঘটনার শিকার অন্যরা হয়ে থাকতে পারে। স্কুলে ভাষা বিষয়ক শিক্ষিকা ছিলেন জ্যাকলিন। তিনি ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর ২৭ শে সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেছেন। সেই পদত্যাগপত্র শনিবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু শনিবার নয়, বৃহস্পতিবার থেকে তার পদত্যাগপত্র কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। বালিকার বিরুদ্ধে চরম অনৈতিক আচরণের কারণে তাকে জন ই পোক কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে পাঠানো হয়েছে।

    নিলামে টাইটানিকের চিঠি বিক্রি হলো রেকর্ড দামে

    ব্রিটিশ জাহাজ টাইটানিকে বসে লেখা চিঠিগুলোর মধ্যে সবশেষ চিঠিটি নিলামে রেকর্ড দামে বিক্রি হয়েছে। ১৯১২ সালে জাহাজটি ডুবে যাবার আগে লেখা ওই চিঠিটি ১২৬ হাজার ডলারে বিক্রি হয়। টাইটানিকের নোটপেপারে লেখা একমাত্র ওই চিঠিটি উত্তর আটলান্টিকের পানিতে ডুবে থাকলেও ভালো অবস্থাতেই ছিল।

    ব্রিটিশ এক নাগরিকের কাছে এটি বিক্রি করা হয়, ওই ব্যক্তি টেলিফোনে নিলামে অংশ নিয়েছিলেন। নিলামদার অ্যান্ড্রু অ্যালড্রিজ বলছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্রিটিশ ক্রেতা “ইতিহাসের অভিনব সব জিনিস সংগ্রহে রাখেন”।

    ১৩ই এপ্রিল ১৯১২ অর্থাৎ জাহাজটি ডুবে যাবার আগের দিন, টাইটানিকের যাত্রী আমেরিকান ব্যবসায়ী অস্কার হলভারসন ওই চিঠিটি লিখেছিলেন তাঁর মাকে ।

    মি: হলভারসন ও তাঁর স্ত্রী ম্যারি সাউদাম্পটন থেকে টাইটানিকে উঠেছিলেন, তাঁদের বাড়ি নিউইয়র্কে ফিরে যাবার কথা ছিল তাঁদের।
    মায়ের কাছে লেখা মি: হলভারসনের চিঠিতে ছিল টাইটানিক ও এর যাত্রীদের কিছু বর্ণনা।

    “জাহাজটা বিশাল বড় এবং দেখতে রাজকীয় হোটেলের মতো। বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি জন জ্যাকব অ্যাস্টর ও তাঁর স্ত্রীও রয়েছে আমাদের সাথে। কোটি কোটি টাকা থাকলেও তিনি দেখতেআর দশটা সাধারণ মানুষের মতোই। ডেকের বাইরে তিনি আমাদের সাথে বসে আছেন”।

    টাইটানিক ডুবে যাবার ফলে যে পনেরোশো মানুষের মৃত্যু হয় তাদের মধ্যে একজন ছিলেন মি: হলভারসন। জেজে অ্যাস্টর ও তাঁর স্ত্রীও মারা যান।
    তবে ম্যারি হলভারসন বেঁচে গিয়েছিলেন।

    তাঁর স্বামী অস্কার হলভারসনের মৃতদেহ যখন উদ্ধার করা হয় তখন তাঁর পকেটে চিঠিটা পাওয়া যায়। চিঠিটার মধ্যে এখনও সাগর ও পানির চিহ্ন রয়েছে।

    মি: হলভারসনের ওই চিঠি তাঁর মায়ের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছিল। নিলামদার মি: অ্যালড্রিজ বলছেন “সম্ভবত এটাই জাহাজের কোনো যাত্রীর লেখা একমাত্র চিঠি যেটা তাঁর মৃত্যুর কারণে পোস্ট না করা হলেও প্রেরকের কাছে পৌঁছেছে”।

    ব্রায়ান ঝড়ে বৃটেনে জীবনযাত্রা বিঘ্নিত: ১০টি ফ্লাইট বাতিল

    ব্রায়ান নামের ঝড়ের কবলে বৃটেনের জনজীবন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বয়ে যাচ্ছে ঘন্টায় ৭০ মাইল বেগে বাতাস। সমুদ্র ও নদীতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ ঢেউ। ফলে সব রকম চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে বিশৃংখলা। বৃটিশ এয়ারওয়েজ তাদের ১০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এসব ফ্লাইট লন্ডনের হিত্রো বিমানবন্দরে অবতরণ ও উড্ডয়ন করার কথা ছিল।

    বৃটানি ফেরিস তাদের আটটি ফেরি চলাচল বন্ধ করেছে। এগুলো প্লাইমাউথ ও পোর্টসমাউথের মধ্যে চলাচলের কথা ছিল। বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন রুটে বেশ কিছু ট্রেন। রোববার ওয়েলস ও ইংল্যান্ডের সাউথ ওয়েলস উপকূলের ওপর দিকে তীব্র শক্তি সম্পন্ন এই ঝড় বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাষ দিয়েছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিড়ম্বনায় পড়েছেন অনেক মানুষ। জেমস নাইস্মিথ টুইটারে লিখেছেন, বৃটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট বাতিল করায় এখন বিলম্বিত ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছি। শনিবার সকালটাই চমৎকারভাবে নষ্ট হলো।

    জার্মানিতে ফের ছুরি হামলা, আহত ৪

    জার্মানির মিউনিখে অজ্ঞাত ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। জার্মানির পুলিশ জানিয়েছে, ওই হামলাকারী কমপক্ষে চারজনকে আহত করেছে। হামলার পর পুলিশ মানুষজনকে সিটি সেন্টারের রোসেনহেইমার প্ল্যাটজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। খবর আল-জাজিরার।

    পুলিশ বলছে, আহতরা সামান্য জখম হয়েছে তবে হামলাকারী এখনো পলাতক রয়েছে। হামলাকারীকে ধরতে পুরো শহরজুড়ে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে সেখানকার পুলিশ।

    হামলাকারীর বয়স ৪০ বছর এবং সে একাই এই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ হামলাকারীর তথ্য চেয়ে এবং বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকার আহ্বান জানিয়ে টুইট করেছে।

    সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে হামলার ঘটনা বেড়ে গেছে। এসব ঘটনায় হামলাকারী প্রচলিত অস্ত্র সরঞ্জামের পাশাপাশি পথচারীদের ওপর গাড়ি তুলে দিয়ে কিংবা ছুরিকাঘাত করে হামলা চালাচ্ছে। গেলো জুলাইয়ে উত্তর জার্মানির হামবুর্গে একটি সুপার মার্কেটে ছুরি হামলায় একজন নিহত এবং ৬ জন আহত হয়। এর আগে গত বছর মিউনিখ শহরের একটি শপিংসেন্টারে অস্ত্রধারীর গুলিতে নয় জন নিহত হয়। আবার যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ফিনল্যান্ডেও এ বছরই ছুরি দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন নিহতও হয়েছে।

    নোবেল শান্তিতে পুরস্কার পেল আইসিএএন

    চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপন (আইসিএএন)। শুক্রবার নোবেল কমিটি এ নাম ঘোষণা করেছে।

    ২০০৭ সালে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে আইসিএএন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি মূলত বৈশ্বিক সুশীল সমাজকর্মীদের সংগঠন। বর্তমানে ১০১টি দেশে এর ৪৬৮টি অংশীদারী সংস্থা রয়েছে। এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।

    নোবেল কমিটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘যে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসতে কাজ করার জন্য এবং এ ধরনের অস্ত্রের চুক্তিভিত্তিক নিষিদ্ধকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য’ এ বছর আইসিএএনকে শান্তিতে নোবেল পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    চলতি বছর এ পর্যন্ত শান্তিসহ মোট ৫টি ক্যাটাগরিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৯ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বছরের পুরস্কার ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। আর বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে ডিসেম্বরে।

    অপরাধ নিয়ন্ত্রণে টাওয়ার হ্যামলেটসে আরো ১৯ জন পুলিশ অফিসার নিয়োগ

    টাওয়ার হ্যামলেটসে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনের জন্য কাউন্সিলের অর্থায়নে আরো ১৯ জন অতিরিক্ত পুলিশ অফিসার নিয়োগের ঘোষনা দিয়েছেন বারার নির্বাহী মেয়র জন বিগস।

    এরা ইতিপূর্বে কাউন্সিলকতৃক নিয়োগকৃত ২০ জন পুলিশ অফিসারের সাথে যোগ দিবেন। মেয়র গত জুলাই মাসে সর্বশেষ ১৪ জন নিয়োগ দিয়েছিলেন। আর ৬ জন আগে থেকেই ছিলেন।

    কেন্দ্রিয় সরকার কতৃক ব্যাপকভাবে পুলিশ বাজেট কাটের কারনে বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির অভিযোগ আসার পর মেয়র জন বিগস এই অতিরিক্ত পুলিশ নিয়োগের জন ফান্ড বরাদ্দ করেন। মেয়র এ খাতে আগামী ৩ বছরের জন্য প্রায় ৩ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের ঘোষনা দিয়েছেন।

    নতুন ১৯ জনের পর বারায় সরাসরি কাউন্সিল ফান্ডেড মোট পুলিশের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো ৩৯ জন। বারার বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে মেট্রোপলিটন পুলিশের সাথে এই ৩৯ জন কাজ করবেন। বিশেষ করে এসিড এট্যাক, এন্টি সোশাল বিহেভিয়ার এবং ভায়োলেন্ট ক্রাইম দমনের দিকে তারা বিশেষ মনোযোগ দিবেন।

    নতুন নিয়োগকৃত ১৯ জনের মধ্যে কয়েকজনকে মেয়র ৫ অক্টোবর আনুষ্টানিকভাবে মিডিয়ার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। পূর্ব লন্ডনের কলিংউড এস্টেটে আয়োজিত এই পরিচয় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি সেইফটি বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার কাউন্সিলার আসমা বেগম।

    এসময় মেয়র বলেন, কমিউনিটি সেইফটি হচ্চেছ আমার অন্যতম এজেন্ডা। বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রন তথা বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমি পুলিশ অফিসারদের স্ট্রীটে দেখতে চাই।

    মেয়র বলেন, সরকার পুলিশ বাজেট কাটকে গ্রহনযোগ্য মনে করলেও আমরা একে গ্রহণ করিনি এবং এজন্য বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে এখাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছি। আশা করছি তারা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হবেন। কেবিনেট মেম্বার ফর কমিউনিটি সেইফটি কাউন্সিলার আসমা বেগম বলেন, বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও এন্টি সোশাল বিহেভিয়ার বাসিন্দাদের কাছে উদ্বেগের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের এই উদ্বেগ দমনে আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্চিছ। বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের নতুন পুলিশ অফিসাররা রাস্তাঘাটে সংগঠিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধ তথা এন্টি সোশাল বিহেভিয়ার দমনে যাতে ভূমিকা রাখতে পারেন এজন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    এন্টি সোশ্যাল বিহেভিয়ার দমনে অতিরিক্ত পুলিশ অফিসাররা সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন আনবেন বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করে টাওয়ার হ্যামলেটস হোমসের চীফ এক্সিকিউটিভ সুস্মিতা সেন বলেন, আমরা এব্যাপারে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্চিছ। যারা বাসিন্দাদের শান্তি বিঘিœত করছেন তাদেরকে সহ্য করা হবে না।

    এদিকে কমিউনিটি সেইফটি ইস্যুকে বিবেচনায় রাখার জন্য এখন থেকে কাউন্সিল কতৃক নিয়োগকৃত পুলিশের ষ্ক্রক্রাইম প্রিভেনশন ডিজাইন এডভাইজারম্ব সকল ডেভেলাপার এবং হাউজিং সংস্থাগুলোকে প্ল্যানিংয়ে সহযোগিতা করবেন। ঘরবাড়ী নির্মানের আগেই নিরাপত্তার ইস্যুকে মাথায় রাখার জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য যে, পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী টাওয়ার হ্যামলেটসে এন্টি সোশাল বিহেভিয়ার একটি বড় ধরনের ইস্যু এবং ২০১৭ সালে পরিচালিত বার্ষিক মতামত জরিপে ৩১% বাসিন্দা অপরাধকে তাদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসাবে উল্লেখ করেন।

    ‘ভুয়া খবরের’ জন্যে ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা করছেন সিরিয় শারণার্থী

    ইউরোপে অভিবাসন প্রত্যাশী সিরিয় এক যুবক ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছেন।

    জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেলের সাথে সেলফি তুলে আলোচিত হয়েছিলেন তিনি।

    কিন্তু পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া একটি খবরে তাকে সন্ত্রাসবাদের সাথে যুক্ত করা হয়।

    এর প্রতিবাদেই তিনি ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছেন।

    ফেসবুকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের এই খবর এমন এক সময়ে এলো যখন নিউজফিডে মিথ্যা সংবাদ সামাল দিতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে।

    জার্মানিতে সোশাল মিডিয়ায় অভিবাসী ও শরণার্থীদের এরকম মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।

    মিথ্যা খবরের শিকার হওয়া সিরিয়ার এই যুবকের নাম আনাস মোদামানি।

    হঠাৎ করেই তিনি বিখ্যাত হয়ে উঠেন যখন ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল তিনি যে শরণার্থী শিবিরে থাকতেন সেখানে বেড়াতে আসেন।

    তখন তিনি জার্মান নেতার সাথে একটি সেলফি তুলেছিলেন।

    এর মাত্র কয়েক মাস আগে তিনি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সিরিয়ার দারায়া শহর থেকে পালিয়ে জার্মানি চলে আসেন। তুরস্ক, গ্রিস এবং সার্বিয়া হয়ে শেষে উঠেন বার্লিনে।

    বর্তমানে তার বয়স ১৯।

    কিন্তু সেই সেলফিই যেন তার কাল হয়ে উঠলো। জার্মান চ্যান্সেলরের সাথে তোলা ছবিটাই হয়ে উঠলো তাকে আক্রমণের লক্ষ্য।’ভুয়া খবরের’ জন্যে ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা করছেন সিরিয় শারণার্থী

    “প্রথমে ব্রাসেলস হামলার সাথে আমাকে যুক্ত করা হলো। ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেলো চেহারায় মিল থাকার কারণে আমাকে হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত করে আমার ছবি ছেড়ে দেওয়া হলো,” বলেন তিনি।

    তিনি জানান, সোশাল মিডিয়াতে যখন হামলাকারী হিসেবে তার ছবি ছড়িয়ে পড়তে লাগলো তখন তিনি মিউনিখে গেছেন তার এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে।

    “অনেক বন্ধু আমাকে বাড়িতে বসে থাকতে পরামর্শ দিলো। এবং আমি তাই করেছি। বাইরে কোথাও যাইনি,” বলেন তিনি।

    তিনি জানান, কেউ কেউ তাকে পুলিশের কাছে যাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছিলো।

    “কিন্তু আমি ভেবেছিলাম এগুলো হয়তো একসময় আপনা আপনিই চলে যাবে।”

    এবং কিছুদিনের জন্যে সেরকম হয়েও ছিলো।

    কিন্তু আবার যখন বার্লিনে ক্রিসমাসের বাজারে লরি উঠিয়ে হামলা করা হলো এবং বলা হলো যে হামলাকারী একজন শরণার্থী তখন মি. মোদামানি আবার মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত হতে লাগলেন।

    তিনি বলেন, “সেসময় আমি আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু জার্মানিতে যে মহিলা আমাকে আশ্রয় দিয়েছেন তিনি আমার কাছে সেই ছবিগুলো আবার নিয়ে এলেন।”

    “এরকম আবার হওয়ায় আমি খুব হতাশ হয়ে পড়ি। আর তখনই আমি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেই।”

    ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বর্ণবাদী পোস্ট মুছে দিতে ব্যর্থ হয়েছে এই অভিযোগ আনা হয় ফেসবুকের প্রধান মার্ক জাকারবার্গ এবং অন্যান্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

    জার্মান আইনে ঘৃণাকে উস্কে দিতে পারে এধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ।

    গত বছরের নভেম্বর মাসে এই অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছেন আইনজীবী চান জু জুন।

    তিনি বলেন, “ফেইক নিউজ বা বানোয়াট খবরের প্রচার বন্ধ করতে ফেসবুক তেমন একটা কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না।”

    “সব বানোয়াট খবরই বেআইনি নয়। কিন্তু যেখানে মানহানির ঘটনা ঘটে তখন সেসব খবর সরিয়ে নেওয়া উচিত,” বলেন তিনি।

    ফেসবুকের একজন প্রতিনিধি বলেছেন, “কিছু ছবি সরিয়ে ফেলার জন্যে মি. জুনের কাছ থেকে আমরা অনুরোধ পেয়েছি। বলা হচ্ছে, এসব ছবি মি. মোদামানির ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে লঙ্ঘন করেছে।”

    তিনি জানান, তার পরপরই লোকজন যাতে সেগুলো দেখতে না পারে তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি মনে করেন না যে ফেসবুকের বিরুদ্ধে কোন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ভিত্তি আছে।

    তবে মি. জুন দাবি করেছেন, সব ছবি সরানো হয়নি। মি. মোদামানিকে সন্ত্রাসবাদের সাথে যুক্ত করা কিছু ছবি এখনও ফেসবুকে পাওয়া যায়।

    এই মামলার শুনানি হবে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে, জার্মানির একটি আদালতে। সূত্র: বিবিসি

    হিটলারের বই বিক্রি বেড়েছে জার্মানিতে

    জার্মানিতে আডল্ফ হিটলারের মাইন কাম্ফ বই-এর একটি বিশেষ সংস্করণের বিক্রি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে গেছে বলে বলছে এর প্রকাশক।

    বইটি গত বছর প্রকাশিত হয়েছিলো। বইটিতে মূল পাঠের সাথে সাথে সমালোচনামূলক টীকা-ভাষ্য যুক্ত করা হয়েছে- যার উদ্দেশ্য হলো, বইটি যে বাজেভাবে লেখা এবং এর বক্তব্য যে অসংলগ্ন – তা তুলে ধরা।

    বইটির প্রকাশক আন্দ্রেয়াস ভিরশিং বলেছেন, জার্মান ভাষায় রচিত ইহুদি-বিদ্বেষী এই নাৎসি মেনিফেস্টোটির ৮৫ হাজার কপি বিক্রি হয়েছে।

    মিউনিখে অবস্থিত সাম্প্রতিক ইতিহাস সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান আইএফজেডের পরিচালক তিনি।

    প্রকাশকরা বলছেন, এই জানুয়ারি মাসের শেষ নাগাদ তারা বইটির ৬ষ্ঠ সংস্করণ প্রকাশ করবেন।

    বইটিতে বিভিন্ন পণ্ডিত ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞদের সমালোচনামূলক মন্তব্যও ছাপা হয়েছে।

    মাইন কাম্ফ এর বাংলা অর্থ আমার সংগ্রাম।

    নাৎসি আমলে প্রকাশিত এই বইটির প্রচ্ছদের সাথে বর্তমান বইটির মিল নেই।

    এর প্রচ্ছদে শুধু শাদা রঙের একটি মলাট, সেখানে নেই হিটলারের কোন ছবিও।

    স্বস্তিকাসহ অন্যান্য নাৎসি প্রতীক জার্মানিতে নিষিদ্ধ।

    পণ্ডিত ব্যক্তিদের মতামত ও মন্তব্যসহ শাদা মলাটে বইটি গ্রত বছর প্রকাশিত হয়েছিলো

    মি. ভিরশিং জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএকে বলেছেন, আইএফজেড এখন এর একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ এবং ফরাসী ভাষাতেও এটি প্রকাশের কথা ভাবা হচ্ছে।

    প্রথম সংস্করণটি জার্মানিতে প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে। সেটি চার হাজার কপি ছাপা হয়েছিলো।

    এধরনের একটি উত্তেজনাকর বই প্রকাশের সমালোচনা করেছে বিভিন্ন ইহুদি গ্রুপ।

    মাইন কাম্ফ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো ১৯২৫ সালে, হিটলারের ক্ষমতায় আসার আট বছর আগে।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্য দিয়ে নাৎসী জার্মানির পতন হয় ১৯৪৫ সালে, এবং হিটলার পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে তার বাংকারে আত্মহত্যা করেন।

    ১৯৪৫ সালে নাৎসি জার্মানির পরাজয়ের পর মিত্র বাহিনী এই বইটির গ্রন্থস্বত্ব বাভারিয়া রাজ্যের কাছে হস্তান্তর করে।

    তারা বইটি ঘৃণা ছড়াতে পারে এ আশংকায় এর পুনর্মুদ্রণ নিষিদ্ধ করে। তবে যুদ্ধের সময় বইটি এত ছাপা হয়েছিল যে তার কপি সারা দুনিয়াতেই সহজপ্রাপ্য।

    জার্মান আইন অনুসারে, এই কপিরাইট কার্যকর থাকে ৭০ বছর। এখন সেই কপিরাইটের মেয়াদ এক বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে। তাই পুনর্মুদ্রণে আর বাধা নেই।

    মি. ভিরশিং বলেছেন, বইটি প্রকাশের আগে আইএফজেড যথাযথ আইনি পরামর্শ নিয়েই বইটি ছাপা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

    প্রধানমন্ত্রী হতে পারলেন না রোমানিয়ার মুসলিম নারী রাজনীতিক

    রোমানিয়ার প্রথম মুসলিম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছিলেন সেভিল শাইদেহ।

    কিন্তু নির্বাচনে বিজয়ী দল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসের মনোনয়ন খারিজ করে দিয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট।

    রোমানিয়ার ১১ই ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয় বাম-ঘেঁষা দল পিএসডি।

    দলের নেতা রিভিউ ড্রাগনিয়া প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য দলের মুসলিম একজন নারী রাজনীতিক, সেভিল শাইদেহ’কে মনোনীত করে বিস্ময় সৃষ্টি করেছিলেন।

    সারা বিশ্বেই আলোচিত হতে থাকে একজন মুসলিম নারী ইউরোপের একটি দেশে প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।

    তবে মিজ শাইদের মনোনয়ন নিয়ে যত না বিস্ময় তৈরি হয়েছিলো, তার মনোনয়ন খারিজ করে তার চেয়েও বেশি বিস্ময় তৈরি করলেন রোমনিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্লাউস ইউহানিস।

    কেন তিনি মিজ শাইদের মনোনয়ন খারিজ করলেন — তা নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি প্রেসিডেন্ট।

    তবে সমালোচনা হচ্ছিলো, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মিজ শাইদেহ আসলে পিএসডি নেতা রিভিউ ড্রাগনিয়া-এর হাতের পুতুল হিসাবে কাজ করবেন।

    নির্বাচনী জালিয়াতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় পিএসডি নেতা মি ড্রাগনিয়া আইনগত-ভাবে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। তাই অভিযোগ উঠেছিলো — মিজ শাইদেহ’র মত একজন অনভিজ্ঞ রাজনীতিকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে পেছন থেকে ক্ষমতার কলকাঠি নাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

    সেভিল শাইদেহ রোমানিয়ার সংখ্যালঘু তাতার মুসলিম সম্প্রদায়ের। তিনি বিয়ে করেছেন একজন সিরিয় ব্যবসায়ীকে।সূত্র: বিবিসি

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমা: সরানো হচ্ছে অর্ধলক্ষাধিক বাসিন্দা

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফেলা একটি বোমা নিষ্ক্রিয় করতে দক্ষিণ জার্মানির আউগসবুর্গ শহর থেকে অর্ধ-লক্ষাধিক বাসিন্দাকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    আজ বড়দিন হলেও লোকজনকে তাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে।

    বলা হচ্ছে, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর অবিস্ফোরিত কোন বোমার কারণে জার্মানিতে এর আগে কোন শহর থেকে এতো লোকজনকে কখনোই সরিয়ে নেওয়া হয়নি।

    ব্রিটিশ এই বোমাটি ১ দশমিক ৮ টনের। ধারণা করা হচ্ছে, ১৯৪৪ সালে বিমান হামলার সময় মিত্র বাহিনী জার্মানিতে এই বোমাটি ফেলেছিলো।

    ওই বিমান হামলায় পুরো শহরটি ধ্বংস হয়ে যায়।

    ভবন নির্মাণের কাজ করার সময় এই বোমাটি পাওয়া গেছে।

    পুলিশ বলছে, তারা নিশ্চিত করে জানে না এই বোমাটি নিষ্ক্রিয় করতে কতো সময় লাগতে পারে।

    বিবিসির ইউরোপ বিষয়ক সম্পাদক মাইক স্যান্ডার্স বলছেন, শহর কর্তৃপক্ষ কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। তাই তারা সব লোকজনকেই সেখান থেকে সরিয়ে নিচ্ছে।

    বলা হচ্ছে, বোমাটি যেখানে পাওয়া গেছে তার দেড় কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত বাড়ি ঘর থেকে সবাইকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    পুলিশ বলছে, বেশিরভাগ বাসিন্দাই তাদের আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধবদের বাড়িতে অবস্থান করতে পারেন। তবে লোকজনের থাকার প্রয়োজন হলে তাদের জন্যে কয়েকটি স্কুল এবং স্পোর্টস হলও খুলে দেওয়া হয়েছে।

    সাংবাদিকরা বলছেন, এর কারণে বড়দিনের উৎসব যে পণ্ড হয়ে গেছে তা নয়। কারণ বেশিরভাগ জার্মানই বড়দিনের উপহার খোলা এবং খাওয়া দাওয়া আগের দিন অর্থাৎ ২৪শে ডিসেম্বরেই সেরে ফেলেন।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আরো যেসব বোমা সম্প্রতি উদ্ধার করা হয়েছে

    মে ২০১৫: কোলন শহরে। ২০ হাজার লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিলো। বোমাটি ছিলো এক টনের।

    জানুয়ারি ২০১২: অয়েসকিরশেনে। একজন নির্মাণ শ্রমিক খননকারী যন্ত্র দিয়ে অবিস্ফোরিত বোমায় আঘাত করলে তিনি নিহত হন।

    ডিসেম্বর ২০১১: কোবলেনৎস শহরে। ৪৫ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিলো। তখন রাইন নদীর তলদেশে দুটো বোমা পাওয়া যায়। নিষ্ক্রিয় করতে তিন ঘণ্টার মতো সময় লেগেছিলো।

    জুন ২০১০: গোয়েটিংগেন শহরে। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের তিনজন সদস্য নিহত হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বোমা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে। সূত্র: বিবিসি